কাজির বাজার আড়ত ইজারা নিয়ে বিরোধ

দোটানায় সিটি প্রশাসক

কাজির বাজার আড়ত ইজারা নিয়ে বিরোধ

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের প্রধান মৎস্য আড়ত কাজির বাজারের ইজারা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি; ওয়াক্ফ এস্টেটকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইজারা দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী দাবি করেছেন; এই সম্পত্তির মালিক জেলা প্রশাসন। সিটি’র ভেতরে থাকায় সেটি ইজারা দেয়া হয়েছে। সিলেটের প্রধান মৎস্য আড়তের বাজার হচ্ছে কাজির বাজার। শত বছর ধরে ঐতিহ্যের এ বাজারে শেখঘাটসহ নগরের মৎস্য ব্যবসায়ীরা ওয়াক্ফ স্টেট থেকে লিজ নিয়ে ওখানে ব্যবসা করছেন।

এ নিয়ে প্রায় সময় জেলা ও সিটি প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিরোধ হয়েছে। আর বিরোধের বিষয়টি আদালত পর্যন্তও গড়ায়। সেখানে আদালতের পক্ষ থেকে রায় পেয়েছেন কাজির বাজার মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির নেতারা। এদিকে চলতি বছর কাজির বাজারকে জেলা প্রশাসনের সম্পত্তি ঘোষণা দিয়ে ইজারা টেন্ডার আহ্বান করে সিটি প্রশাসন। এই টেন্ডারে অংশ নিয়ে বাজারের ইজারা পান নগরের রায়নগরের বাসিন্দা লুৎফুর রহমান। বৈশাখের প্রথম দিকে তারা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকায় ইজারা পেলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বাজার তাদের সমঝে দেয়া হচ্ছিলো না। নিয়ম হচ্ছে; কাউকে বাজার ইজারা দিলে সেটি সমঝে দিতে হয়। ইজারাদার লুৎফুর রহমানের অংশীদার কয়েস আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেনÑ সোমবার বাজার সমঝে দিতে সেখানে যান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সিটি’র কর্মকর্তারা। সেখানে ইজারাদারের কাছে বাজার সমঝে দিতে পারেননি সিটি’র প্রশাসক ও কর্মকর্তারা। উল্টো তারা বাজারের লিজ আপাতত স্থগিত করে দিয়েছেন। তিনি বলেনÑ বাজারের ইজারা বাবদ তাদের প্রায় ১৫-১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। এখন বাজার সমঝে দিতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে।

তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- আমি বাজারের পরিস্থিতি দেখতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে জাহাঙ্গীর আলমসহ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন বাজারটি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। প্রশাসক জানিয়েছেনÑ বাজারের বিষয়টি নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করতে চাই। এ জন্য ব্যবসায়ীদের তাদের কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসার জন্য বলা হয়েছে। তবে বাজারের সম্পত্তির বিষয়ে প্রশাসক দাবি করেছেন- ওই বাজার হচ্ছে জেলা প্রশাসনের সম্পত্তি।

এ জন্য সিটি করপোরেশন থেকে ইজারা দেয়া হয়েছে। নগরের ভেতরে সরকারি জায়গা সিটি করপোরেশন ইজারা দেয়ার এখতিয়ার রাখে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন- কাজির বাজার মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেছেনÑ সোমবার বাজারে এসে প্রশাসক সিটি কর্মকর্তারা লাল ফ্ল্যাগ টানিয়ে দেন। উন্নয়ের জন্য ফ্ল্যাগ টানানো হয়েছে দাবি করেন সিটি’র কর্মকর্তারা। এই জমিটি হচ্ছে ওয়াক্ফ এস্টেটের জায়গা। আগে এটির নাম ছিল বাবুর বাজার। এখন কাজির বাজার। এই বাজার নিয়ে এসিল্যান্ড, ডিসি আগে মামলা করলে আমরা রায় পেয়েছি। তিনি বলেনÑ ইজারা প্রদানের বিষয়টি জানার পর আমরা বিষয়টি সিটি করপোরেশনে লিখিত দেই। পরে আদালতে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আদালতের নোটিশ, নিষেধাজ্ঞার পরও সবকিছু উপেক্ষা করে সিটি করপোরেশন ইজারা দিয়েছে। এটা আইনের লঙ্ঘন বলে জানান তিনি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন