কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে ঘুমাতে যাওয়ার পর সকালে নিজ ঘর থেকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি গতকাল সকালে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গট্রিয়া গ্রামে ঘটে। নিহত রতন (২০) ওই গ্রামের হোসেন মিস্ত্রির ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বছরখানেক আগে তার বিয়ে হয়। দুই মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান রতন। সোমবার সকালে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ঘুম থেকে না ওঠায় পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে তাকে ঘরের ভেতরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করে। নিহতের বাবা হোসেন মিস্ত্রি বলেন, আমার ছেলে ব্রাজিল দলের সমর্থক ছিল। গত রাতে খেলায় ব্রাজিল হেরে যাওয়ার পর তার মন খারাপ ছিল। এরপর সে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। সকালে অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে দেখি, সে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। তবে আত্মহত্যার নির্দিষ্ট কোনো কারণ আমরা বলতে পারছি না।
স্বজনদের ভাষ্য, কন্যাসন্তান জন্মের পর থেকে রতনের স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, যা তাদের বাড়ির পাশেই। ঘটনার সময় রতন ঘরে একাই ছিলেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, আত্মহত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুধু পছন্দের ফুটবল দল হেরে যাওয়ায় কেউ আত্মহত্যা করেছেন, এমনটি বলার সুযোগ নেই।
