বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখা কতোটা চ্যালেঞ্জিং, সেই বাস্তবতা কেপ ভার্দের বিপক্ষে হারে হারে টের পেয়েছে আর্জেন্টিনা। আফ্রিকার নবাগত দলটিকে হারাতে রীতিমতো ঘাম ছুটে গিয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। এবার শেষ ষোলোতে তাদের সামনে আরেক আফ্রিকান দল মিশর। আজ রাত ১০টায় আটলান্টায় শুরু হবে ম্যাচ। লিওনেল মেসি-মোহাম্মদ সালাহর দ্বৈরথ এ ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। ক্লাব পর্যায়ে একাধিকবার একে অন্যের বিপক্ষে খেললেও এবারই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারানোর পর মিশরীয়দের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে মিশর কোচ হোসাম হাসানের হুঙ্কার, ‘একজন মিশরীয় কাউকে ভয় পায় না।’ আর তরুণ মিডফিল্ডার হামজা আব্দেলকারিম বলেছেন, ‘শেষ ষোলোতে প্রতিপক্ষ যেই হোক আমরা তৈরি।’
প্রতিটি ম্যাচেই বল পায়ে পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন মেসি। মিশরের বিপক্ষেও তিনিই হবেন আর্জেন্টিনার তুরুপের তাস। তবে এরইমধ্যে ৭ গোল করে ফেলা মেসিকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা নেই মিশরের। আব্দেলকারিম বলেন, ‘আমরা মেসি নয়, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়ছি। আর আমি যখন মাঠে নামি বাইরে কে কী বললো কানে তুলি না। আমার মনযোগ থাকে কেবলই মাঠে।’ মেসি অ্যান্ড কোং তাই আরেকটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন। আর কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। খোদ কোচ লিওনেল স্কালোনি স্বীকার করেছেন, উন্নতির প্রয়োজন।
খেলোয়াড়দের ক্লান্তি, আক্রমণে ধীর গতি। মেসি ছাড়া অন্য খেলোয়াড়রা এখনো অনুজ্জ্বল। হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজের নখদন্তহীন পারফরম্যান্স উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে স্কালোনির। এছাড়া মাঝমাঠের তারকারাও ধারাবাহিক নন। এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো ডি পল, অ্যালিস্টার ম্যাক অ্যালিস্টার এক ম্যাচ ভালো খেলেন তো পরের ম্যাচে ফ্লপ। থিয়াগো আলমাদাকে নিয়ে ধরা জুয়াটা ঠিক স্কালোনির পক্ষে আসছে না। এছাড়া নিকো পাজ ও সিমিওনের মতো খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সময় না দেয়াটাকেও ‘ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন। এক বিশ্লেষণে লা নাসিওন সতর্ক করে বলেছে, এসব সমস্যার সমাধান শিগগিরই খুঁজে বের করতে হবে স্কালোনিকে। নয়তো আগেভাগেই বিদায় ঘণ্টা বেজে যেতে পারে আর্জেন্টিনার।
টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন স্কালোনি। লেফট-ব্যাকে নিকোলাস তালিয়াফিকোকে শুরুতেই নামতে পারেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে বদলি নেমে নজর কাড়েন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তার একাদশে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। সেক্ষেত্রে জায়গা হারাবেন আলমাদা। আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গী হিসেবে লাউতারো বা আলভারেজ একজন খেলবেন। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ভরসা রাখছেন এই দু’জনের ওপর। সংবাদমাধ্যম ওলে’কে বাতিস্তুতা বলেন, ‘আমরা সবসময় ওদের কাছ থেকে গোল প্রত্যাশা করি। কিন্তু এখন গোল দেওয়ার কাজটি মেসি করছে। কাজেই আমি কোনো সমস্যা দেখছি না। ওরা দু’জনও কিন্তু ভালো করছে।’
মেসি-সালাহ নিয়ে মেতেছে গাজাবাসীও
বুলেট-বোমার ভয় উপেক্ষা করে ফুটবলে মেতেছে গাজাবাসী। মিশরের জয়কে তারা ‘নিজেদের’ বলে উদযাপন করছে। তবে সবার চোখ এখন আর্জেন্টিনা ম্যাচে। একদিকে মোহাম্মদ সালাহ, অন্যদিকে লিওনেল মেসি। দুই মহাদেশের ফুটবল সুপারস্টারের দ্বৈরথ দেখতে মুখিয়ে আছে গাজাবাসী। রাজনৈতিক ও মানবিক কারণে হয়তো তারা সালাহকেই সমর্থন জানাবে। কিন্তু পুরো উপত্যকাজুড়েই তুমুল জনপ্রিয় মেসি। ৩৪ বছর বয়সী আহমেদ আল মাসরি শাতি শরণার্থী শিবির থেকে বলেন, ‘৯০ মিনিটের জন্য আমরা বোমার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। ক্ষুধা কী জিনিস ভুলে ছিলাম। নিজেদের গৃহহীন মনে হয়নি। মিশর আমাদের প্রতিবেশিই নয় ওরা আমাদের ভাই, আমাদের ঢাল এবং আশা। যখন ওরা জেতে, আমরাও জিতি। যখন ওরা কাঁদে আমরাও কাঁদি।’ উম্মে খালেদ নামের এক গৃহহীন নারী সংবাদমাধ্যম আল আহরামকে বলেন, ‘আমি আমার ছেলেমেয়ের মুখে হাসি দেখেছি। শেষবার দেখেছিলাম যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে।’
