আক্ষেপ ঘুচানোর মিশনে সুইসদের সামনে কলম্বিয়া

আক্ষেপ ঘুচানোর মিশনে সুইসদের সামনে কলম্বিয়া

ফন্ট সাইজ:

সুইজারল্যান্ডের কাছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো যেন এক অভিশপ্ত রাউন্ড। গত তিন আসরে সুইসদের যাত্রা থেমে যায় এই রাউন্ডে। তার আগে ২০০৬ ও ১৯৯৪ সালেও একই দুর্ভাগ্য বরণ করে নিতে হয়। সুইজারল্যান্ড সবশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল ১৯৫৪ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে। ৭২ বছরের আক্ষেপ ঘুচানোর মিশনে সুইসদের সামনে এবার লাতিন জায়ান্ট কলম্বিয়া। ভ্যাঙ্কুবারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে খেলা শুরু আজ রাত ২টায়। দু’দলই ম্যাচটিকে নিজেদের ‘সবচেয়ে কঠিন’ পরীক্ষা মনে করছে। কলম্বিয়া কোচ নেস্তর লরেঞ্জো বলেন, ‘ওরা (সুইজারল্যান্ড) গোছানো দল। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত ভালো মানের খেলোয়াড় রয়েছে। খেলার মানও চমৎকার। ম্যাচটি খুব কঠিন হতে যাচ্ছে।’

আর সুইস মিডফিল্ডার আর্দন ইয়াশারিও মনে করেন, কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তিনি বলেন, ‘কানাডার বিপক্ষে আমরা সবচেয়ে বেশি চাপে ছিলাম। এবার হয়তো চাপটা আরও বেশি হবে। কলম্বিয়ানরা শুধু মাঠে নয়, গ্যালারিতেও আবেগী। তারা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। কিন্তু আমরাও জানি, কীভাবে চাপ সামলাতে হয়।’
এ পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড। দুই জয়ে এগিয়ে রয়েছে কলম্বিয়া। সুইজারল্যান্ড জিতেছে এক ম্যাচ। বিশ্বকাপে দু’দলের একমাত্র সাক্ষাত ১৯৯৪ সালের আসরে। সেবার গ্রুপ পর্বের খেলায় সুইসদের ২-০ গোলে হারিয়েছিল কলম্বিয়া। ফর্ম বিচারেও এগিয়ে রাখতে হয় কলম্বিয়াকে। কোনো ম্যাচ না হেরে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ পা রাখে কলম্বিয়া। এরপর ঘানাকে হারিয়ে নিশ্চিত করে শেষ ষোলো। চার ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে দলটি। তবে খুব বেশি গোলও আদায় করে নিতে পারেননি হামেস রদ্রিগেজ-লুইস দিয়াজরা। এ নিয়ে অবশ্য আক্ষেপ নেই কলম্বিয়া কোচের। ঘানার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের পর লরেঞ্জো বলেন, ‘ছেলেরা যেভাবে রক্ষণ আগলে রেখেছে তাতে খুব ভালো লেগেছে আমার। প্রতিপক্ষকে আমরা খুব বেশি সুযোগ দিইনি।’
কলম্বিয়ার রক্ষণ প্রাচীর ভেঙে গোল আদায় করাটাই হবে সুইজারল্যান্ডের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দলটিতে রয়েছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। সুইজারল্যান্ডও গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে আসে। তারপর আলজেরিয়াকে হারিয়ে পা রাখে শেষ ষোলোয়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল ৮৮ বছরে সুইজারল্যান্ডের প্রথম কোনো নকআউট জয়। ওই ম্যাচে কোনো গোল না পেলেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান ইয়োহান মানজাম্বি। সতীর্থকে দিয়ে একটি গোল করান তিনি। এছাড়া ব্রিল এমবোলোও রয়েছেন ছন্দে। ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত তিন গোল ও দুই অ্যাসিস্ট নিয়ে সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়। আজকের ম্যাচেও তিনি হতে পারেন কোচ মুরাত ইয়াকিনের তুরুপের তাস। মানজাম্বির প্রশংসা করে তার সতীর্থ রুবেন ভাগার্স বলেন, ‘আমরা সবাই দেখেছি, অল্প বয়সে সে কী করতে পারে। সত্যি বলতে, এই বয়সেই সে গোল ও অ্যাসিস্ট করছে। দলকে সাহায্য করছেÑ এটা স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। আমি তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি।’ কোচ মুরাদ ইয়াকিনও ভরসা রাখছেন তার প্রিয় শিষ্যের কাঁধে। তিনি বলেন, ‘ও এমন একজন খেলোয়াড় যে ট্রানজিশনে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আক্রমণে সুযোগ তৈরি করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার।’

ঘানার বিপক্ষে হামেস রদ্রিগেজকে মাঠ থেকে তুলে নিয়েছিলেন লরেঞ্জো। প্রশ্ন উঠেছিল, তবে কি ইনজুরিতে পড়লেন হামেস। তবে লরেঞ্জো বিষয়টি খোলাসা করে জানান, কৌশলগত কারণে বদলি করা হয়েছিল তাকে। ফলে সুইসদের পক্ষে হামেসকে মাঠে দেখা যাবে। তবে স্ট্রাইকার জন কর্দোবার খেলা অনিশ্চিত। কুঁচকির চোটে ঘানার বিপক্ষে মাত্র ৮ মিনিটেই মাঠ ছেড়ে যান কর্দোবা। আজ তার জায়গা নিতে পারেন গত ম্যাচে অ্যাসিস্ট করা লুইস সুয়ারেজ। অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড শিবিরে কোনো চোট নেই। মূল খেলোয়াড়দের সবাই সুস্থ রয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন