সেই নিলান্দ এখন বিশ্বকাপের নায়ক

সেই নিলান্দ এখন বিশ্বকাপের নায়ক

ফন্ট সাইজ:

সপ্তাহখানেক ধরে বেকার। স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ার সঙ্গে ৩০শে জুন চুক্তি শেষ হয় এরপর ৩৫ বছর বয়সী এ গোলরক্ষকের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেনি ক্লাবটি। এমনকি বিশ্বকাপ শুরুর আগে নরওয়ে দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন না তিনি। সেই ওরইয়ান নিলান্দের দিকেই এখন স্পট লাইট। নরওয়ের গোলপোস্টে দেয়াল হয়ে রুখে দিয়েছেন পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। জোড়া গোল করা হালান্দ ম্যাচসেরা হলেও হলদে আনন্দ থামানোর নায়ক নিলান্দই। ম্যাচ শেষে একই সুর হালান্দের কণ্ঠে। সিটি তারকার চোখে নরওয়ের ইতিহাস গড়ার নায়ক নিলান্দ।

নিউ জার্সিতে ম্যাচের ১৪ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো ব্রাজিল। ভিআরের সাহায্যে পেনাল্টি পায় তারা। হলুদ শিবিরের হয়ে স্পটকিক নেন ব্রুনো গিমারাইস। রান আপে গতি কমিয়ে নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্দকে বোকা বানাতে চেয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। কিন্তু বা দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে পেনাল্টি আটকে দেন নিলান্দ। শুধু পেনাল্টি বাঁচানোই নয়, হালান্দ দৃশ্যপটে আসার আগপর্যন্ত নিলান্দই নরওয়েকে ম্যাচে রাখেন। ৩১ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির বাঁ দিক দিয়ে নেয়া শট আটকে দেন নিলান্দ। এরপর ৪১ মিনিটে বঞ্চিত করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে। মার্তিনেল্লির পাস থেকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বক্সের ভেতর নিচু শট নিয়েছিলেন দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে। আবারও লম্বা পা বাড়িয়ে বল ফিরিয়ে দেন নিলান্দ। এনদ্রিকের শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি। ৮৬ মিনিটে নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আয়েরের গায়ে লেগে বল দিক বদলে আকাশে উঠে যায়। ডান পোস্ট ঘেঁষে জালে ঢোকার আগ মুহূর্তে এক হাতে বল ছুঁয়ে দুর্দান্ত সেভ দেন নিলান্দ। নিলান্দের নায়ক হয়ে উঠার গল্পটাও কম নাটকীয় নয়। বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে নরওয়ের প্রথম পছন্দের গোলক্ষক ছিলেন না। ইসরাইলে জন্ম নেয়া ও রাশিয়ায় বেড়ে উঠা নিকিতা হাইকিন পেতেন গোলবার সামলানোর দায়িত্ব। তাকে খেলাতে কিছুদিন আগে নরওয়ের নাগরিত্ব দেয় দেশটির সরকার। যদিও হাইকিনের জায়গায় নাটকীয় ভাবে সুযোগ পান নিলান্দ। ফিফা নিকিতার আবেদন বাতিল করে দিলে নরওয়ের প্রথম পছন্দে আসেন তিনি।

১৯৯০ সালে জন্ম নেয়া নিলান্দের বেড়ে উঠা নরওয়ের ভোল্‌দা শহরে। ছোটবেলায় হ্যান্ডবল খেলতেন। স্কিইংও করতেন। ফুটবলেও ছিলেন ভালো। শেষে বেছে নিলেন গোলরক্ষার গ্লাভস। বাবা জোস্টেইনও ছিলেন গোলরক্ষক। তার পথ ধরেই এগিয়েছেন ছেলে। নিলান্দের ক্যারিয়ার শুরু হোড ক্লাবে। ২০১২ সালে নরডিক কাপ ফাইনালে সেরা খেলোয়াড় হন। তারপর যোগ দেন মোল্ডে। জেতেন লীগ শিরোপা। ২০১৫ সালে যান জার্মানিতে। এবারের গন্তব্য ক্লাব ইঙ্গলস্টাড। কিন্তু সেই বছরই দলের রেলিগেশন হয়ে যায়। তিন বছর পর পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। নাম লেখান অ্যাস্টন ভিলায়। অ্যাকিলিস টেন্ডনের চোটে পড়ে বেশিরভাগ সময় কাটান বেঞ্চে।

এরপর নরউইচ, বোর্নমাউথ, রিডিং ক্লাব। কোথাও থিতু হতে পারেননি। ২০২২ সালে যান জার্মানির লিপজিগে। পরের বছর আসেন সেভিয়ায়। খেলেন তিন মৌসুম। যদিও বেশিরভাগ সময় তার বেঞ্চে কেটেছে। ২০১৩ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ে জাতীয় দলে নিলান্দের অভিষেক হয়। তবে জাতীয় দলে নিয়মিত জায়গা পাননি। এই বিশ্বকাপে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচে নরওয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ খেলা খেলোয়াড় হন তিনি (৩৫ বছর ২৭৯ দিন)। ব্রাজিলের বিপক্ষে উপহার দিলেন ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন