ইংলিশদের ‘আজতেকা জয়’

কেইনের বিচিত্র রেকর্ড

ইংলিশদের ‘আজতেকা জয়’

ফন্ট সাইজ:

মেক্সিকোর ফুটবল দুর্গ হিসেবে পরিচিত ‘এস্তাদিও আজতেকা’র উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ফুটেরও উপরে। সেখানে ৮০ হাজার উন্মত্ত স্থানীয় সমর্থকের গগনবিদারী চিৎকার, ম্যাচের আগে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে এক ঘণ্টার বিলম্ব, আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ানসার লাল কার্ডÑ সবকিছুই যেন থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাজি ধরছিল। কিন্তু সব প্রতিকূলতা ছাপিয়ে আজতেকার সেই নরককুণ্ডে রচিত হলো এক মহাকাব্যিক জয়। ১০ জনের ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে পা রাখলো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।

ম্যাচের পর জুড বেলিংহামের জোড়া গোল কিংবা জর্ডান পিকফোর্ডের অবিশ্বাস্য সব সেভ নিয়ে মাতামাতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্নায়ুক্ষয়ী থ্রিলারের কেন্দ্রে এমন এক চরিত্র, যিনি এক অদ্ভুত ও ঐতিহাসিক রেকর্ডের খতিয়ান লিখে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের নামটা খোদাই করে নিলেন। তিনি আর কেউ নন, থ্রি লায়ন্স অধিনায়ক হ্যারি কেইন। আজতেকার এই নাটকীয় রাতে কেইন ফুটবল ইতিহাসের এমন এক পাতায় প্রবেশ করলেন, যেখানে গত ছয় দশকে কোনো ফুটবলার পা রাখতে পারেননি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে কেইনই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি একই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করলেন, আবার নিজের বক্সে ফাউল করে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহারও দিলেন!
প্রথমার্ধে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলের পর মেক্সিকো এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এর মধ্যেই কুয়ানসা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের ইংল্যান্ড চরম চাপে পড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে অ্যান্থনি গর্ডনকে মেক্সিকান গোলকিপার ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। পুরো আজতেকার পাহাড়সম চাপ মাথায় নিয়ে স্পট-কিকে দাঁড়ান অধিনায়ক। ঠাণ্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন কেইন।

চলতি বিশ্বকাপে কেইনের এটি ষষ্ঠ গোল। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে ১৪তম। এর সুবাদে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গার্ড মুলারকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আর্লিং ব্রট হালান্দের (সবারই ৭টি করে গোল) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন তিনি।
আজতেকায় নাটকীয় মোড় আসে ম্যাচের শেষ দিকে। মেক্সিকো যখন মরিয়া হয়ে আক্রমণ করছে, তখন নিজেদের ডি-বক্সে মেক্সিকান খেলোয়াড়কে ফাউল করে বসেন খোদ কেইন! রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দ্বিধা করেননি। মেক্সিকোর রাউল হিমিনেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ এ নামিয়ে আনেন। ম্যাচের যোগ করা ১১ মিনিটে মেক্সিকো একের পর এক আক্রমণ করে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে দুমড়ে-মুচড়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু গোলরক্ষক পিকফোর্ডের বীরত্ব আর ইংলিশদের জমাট ডিফেন্স সেই লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের পর, এটিকে ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয় হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরার, ‘সবকিছুই ওদের বিপক্ষে যাচ্ছিল- শক্তি, উচ্চতা, লাল কার্ড। কিন্তু ছেলেরা সব টপকে গেছে।’
ম্যাচ শেষে নিজের এই অম্লমধুর ও ঐতিহাসিক রাত নিয়ে কেইন বলেন, ‘গত ম্যাচের পরই আমি বলেছিলাম এটা নায়ক হয়ে ওঠার মুহূর্ত। আজ মাঠের প্রতিটি খেলোয়াড় একেকজন নায়ক। আমার পুরো ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রিয় একটি রাত হয়ে থাকবে এটি।’ কোয়ার্টার ফাইনালে ইংলিশরা আগামী শনিবার মায়ামিতে নরওয়ের মুখোমুখি হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন