শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রতিটি মুহূর্তই চমক আর রোমাঞ্চ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায় থেকে শিক্ষা নিয়ে আর্জেন্টিনাকে সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার মামুনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নিজেদের (ব্রাজিল) গোলের সুযোগ কাজে না লাগাতে পারলে যেকোনো দলকে বড় মাসুল দিতেই হয়। ব্রাজিল যে ভুল করেছে, আর্জেন্টিনা তা করলে পরিণাম একই হবে। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ। মনে রাখতে হবে ইউরোপের বাইরের দলের বিপক্ষে খেলা সব সময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এই দলগুলোর বিপক্ষে খেলা কম হয়। শেষ ১৬-এর ম্যাচে ছোট কোনো ভুল মানেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। মিশরের ডিফেন্স কঠিন হলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ তুখোড়। মেসিকে আটকানো কারো একার পক্ষে অসম্ভব।
তবে মেসি একা জেতাবেন, এমন নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসা জরুরি। যদিও এ নিয়ে মেসি টানা ৬ বিশ্বকাপে খেলছে তাই এটা দলের একটা অভ্যাসেও পরিণত হয়েছে তাই মেসি নির্ভরতা তো থাকবেই।’
মামুনুল বলেন, ‘মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকলেও খেলাটি সহজ হবে না। যেমনটা হয়েছে কেপ ভার্দের বিপক্ষে। মিশরের রক্ষণভাগ অত্যন্ত জমাট এবং তারা কাউন্টার অ্যাটাকে বেশ দক্ষ। তবে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিওনেল মেসি যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাতে যেকোনো রক্ষণ দেয়াল ভেঙে ফেলা কঠিন নয় । কোচ স্কালোনি দলের ক্লান্তি কাটিয়ে নতুন ছকে সাজাচ্ছেন একাদশ। গত ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ধকল কাটিয়ে উঠতে বেঞ্চে থেকে শক্তি নিতে হবে আর্জেন্টিনাকে। মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘আর্জেন্টিনা যদি শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, তবেই তারা জয় তুলে নিতে পারবে। তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা যেভাবে খেলেছে এমনট হলে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার আশা নেই। সেমিফাইনাল খেলাও কঠিন হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। তবে তাদের কোচ নিশ্চিয় ভুল গুলো নিয়ে কাজ করেছে।’ মিশরের মূল শক্তি তাদের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহ এবং তাদের জমাট রক্ষণব্যূহ, যা আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে বলেও জানান মামুনুল। তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ সালাহ হবে আর্জেন্টিনার আরেকটি চ্যালেঞ্জ। অবশ্যই তাকে চোখে চোখে রাখতে হবে।’
সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া
‘ফিফটি-ফিফটি’
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া ম্যাচ নিয়ে মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘এই দুই দলের লড়াইটি একদম ফিফটি-ফিফটি। কাউকেই এখানে এগিয়ে রাখা কঠিন। দুই দলই দলগত ফুটবলে বিশ্বাসী এবং মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে কারা শেষ হাসি হাসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড হোক বা কলম্বিয়া, প্রতিটি দলই নকআউটে জেতার জন্য সবটুকু উজাড় করে দেয়। এখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয় বড় প্রভাব ফেলবে।’ সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া লড়াইয়ে কলম্বিয়া কিছুটা এগিয়ে থাকবে বলে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ধারণা। কলম্বিয়ার জমাট ডিফেন্স টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফর্ম করছে এবং লুইস দিয়াজ যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। সুইজারল্যান্ড কোনো একক তারকার ওপর নির্ভর না করে দলগত ফুটবলে গোল আদায় করে নিচ্ছে, যা তাদের এগিয়ে রাখছে। মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দলই সমান শক্তিশালী, কিন্তু খেলার গতিবিধি অনুযায়ী কলম্বিয়া রক্ষণ সামলে ভালো খেলে।’ সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগে কিছু অস্থিতিশীলতা থাকলেও তাদের তরুণ স্ট্রাইকাররা গোল করার দারুণ ক্ষমতা দেখিয়েছেন। আর্জেন্টিনা কি পারবে মিশরের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যেতে, নাকি সালাহ-মারমুশ ফ্যাক্টর অঘটন ঘটাবে, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। অন্যদিকে কলম্বিয়া এবং সুইজারল্যান্ডের ম্যাচটি হবে ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধের বহিঃপ্রকাশ। মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘নকআউট পর্বে প্রতিটি ভুলই বিদায়। আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়াকে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।’
