গোল্ডেন বুটের আগুনে লড়াই

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীরা যা দেখছেন, তা স্রেফ কোনো টুর্নামেন্ট নয়। ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং বিধ্বংসী এক গোল্ডেন বুট লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে থাকছে গোটা বিশ্ব। নরওয়ের হয়ে আর্লিং ব্রুট হালান্দের জোড়া গোল যেমন ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়েছে, ঠিক তেমনি গোল্ডেন বুটের রেসটাকে এক ধাক্কায় রূপ দিয়েছে এক অগ্নিকুণ্ডে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম একই টুর্নামেন্টে তিন-তিনজন মহাতারকা একসঙ্গে ৭টি করে গোল করে টেবিলের শীর্ষে বসে আছেন। তারা লিওনেল মেসি, হালান্দ এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কোনো একক বিশ্বকাপে ৩ জন খেলোয়াড় ৭ বা তার বেশি গোল করতে পারেননি। যদিও এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের অলৌকিক রেকর্ডটি ১৯৫৮ সাল থেকে এখনো নিজের দখলে রেখেছেন ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেইন। তবে এবারের ত্রিমুখী লড়াই যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে সেই রেকর্ডও এবার হুমকির মুখে।

লিওনেল মেসি: ৩৯ বছর বয়সে এসেও মেসি যেভাবে নিজের স্ক্রিপ্ট লিখছেন, তা অবিশ্বাস্য। আর্জেন্টিনার পুরো দলটাই তাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এবারের বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে ৭ গোল করা মেসির ঝুলিতে এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২০টি গোল। একইসঙ্গে, টানা ৮টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ডও এখন তার। আজ শেষ ১৬-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিশর। এই বাধা পার করতে পারলে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের পথে আরও ৩টি ম্যাচ (ফাইনাল বা তৃতীয় স্থান নির্ধারণীসহ) খেলার সুযোগ পাবে। ৪ ম্যাচে ৭ গোল করা মেসি যদি মোট ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান, তবে ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের ১০ গোলের রেকর্ড ভাঙা তো বটেই, ফন্তেইনের ১৩ গোলের রেকর্ড ছোঁয়াও তার পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়।

আর্লিং ব্রুট হালান্দ: কোনো চাপ ছাড়া, একদম ফুরফুরে ও রিল্যাক্স মুডে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপটা উপভোগ করছেন ২৫ বছর বয়সী হালান্দ। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য তিনি এক জীবন্ত আতঙ্ক। চলতি বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে ৭ গোল করে ফেলেছেন এই সিটি স্ট্রাইকার। প্রতি ৭১ মিনিটে একটি করে গোল করছেন!

আগামী ১১ই জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে হালান্দরা। নরওয়ের এই ঐতিহাসিক রূপকথা যত লম্বা হবে, হালান্দের গোল্ডেন বুট জেতার সম্ভাবনা ততটাই জোরালো হবে। তবে ভয়ের জায়গাও আছে। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে যদি শক্তিশালী ইংল্যান্ডের কাছে ছিটকে যায়, তবে হয়তো ম্যাচ সংখ্যার দিক থেকে এমবাপ্পে বা মেসির চেয়ে পিছিয়ে পড়বেন এই গোলমেশিন।

কিলিয়ান এমবাপ্পে: ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে ক্যারিয়ারের ক্যারিয়ারের একদম পিক ফর্মেই আছেন। তিনি যেন পণ করেই এসেছেন এই বিশ্বকাপটা নিজের করে নেয়ার। এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ফ্রান্স দলটার অতিমানবীয় শক্তি। মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা আর ওসমানে দেম্বেলেদের মতো একঝাঁক ক্রিয়েটিভ ফুটবলার তার সঙ্গেই খেলছেন, যা এমবাপ্পের জন্য গোলের সুযোগ পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা তৈরি করে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। মেসি ৩৯ বছর বয়সে এসে যেখানে টুর্নামেন্টের ক্লান্তি ও কন্ডিশনের সঙ্গে লড়াই করছেন, সেখানে তরুণ ও ক্ষীপ্র এমবাপ্পে শারীরিকভাবে অনেক এগিয়ে। ফ্রান্স যদি তাদের এই অপ্রতিরোধ্য ছন্দ ধরে রেখে ফাইনাল পর্যন্ত যায়, তবে এমবাপ্পে মাঠে বেশি সময় পাবেন এবং গোল্ডেন বুটটা আবারো তার হাতেই ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন