ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দীনের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ থানা ঘেরাও করে আন্দোলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নাঈম নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বামপন্থি নেতা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দোষীদের শাস্তির দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ৪ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করেছে রমনা থানা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে থানার সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিকাল ৪টার দিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন শেষ করেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সোমবার রাতে রাজধানীর সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নাঈম উদ্দীনকে পুলিশের পক্ষ থেকে মারধর করা হয়। তাদের দাবি, রমনা জোনের ডিসি মাসুদের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানের সময় নাঈম পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাফিরা জাহান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্ন করা নাগরিক অধিকার। তার অভিযোগ, নাঈমকে শুধুমাত্র প্রশ্ন তোলার কারণে মারধর করা হয়েছে। তিনি ডিসি মাসুদ ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে নৃবিজ্ঞান বিভাগের আবদুল্লাহেল বুবুন তিন দাবি উত্থাপন করেন। ডিসি মাসুদসহ হামলায় অংশ নেয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা, ক্যাম্পাস এরিয়ার ভেতরে ও বাইরে সকল ধরনের পুলিশিং বন্ধ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে নৃবিজ্ঞান’ নামে একটি প্ল্যাটফরমও প্রেস ব্রিফিং করে। তারা বলেন, হামলার জন্য শাহবাগ থানাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত চলাকালে ডিসি মাসুদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম জানান, কথা-কাটাকাটির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, কাউকে আটক করলে আইনানুগভাবে তল্লাশি করা হয়; কিছু না পেলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে এবং মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার রাতের ওই অভিযানের সময় পুলিশের আঘাতে দুই সাংবাদিকও আহত হন। তারা হলেন, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তোফায়েল আহমেদ (২৫) ও আজকের পত্রিকার কাউসার আহমেদ রিপন (২৭)। আহতদের মধ্যে তোফায়েলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দুই ঘটনা ছাড়াও নানান ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
