লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ড্রাম ট্রাকে ক্ষতির মুখে ফোরলেনের উন্নয়ন কাজ

লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ড্রাম ট্রাকে ক্ষতির মুখে ফোরলেনের উন্নয়ন কাজ

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুরে অবৈধ প্রায় ৫ শতাধিক অনিবন্ধিত ‘ড্রাম ট্রাক’। এসব ট্রাকের তান্ডবে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। বিলীন হয়ে যাচ্ছে হাইওয়ে সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ সড়ক পর্যন্ত। বেপরোয়া গতি ও অদক্ষ ড্রাইভারের কারনে ঘটছে প্রাণহানি। সড়কের ফিটনেসের ছেড়ে অবৈধ ড্রাম ট্রাকের ওভার লোডের কারনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সরকারের উন্নয়ন কাজ। এ অবৈধ ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণে না আসলে সরকারের ফোরলেন উন্নয়ন প্রকল্প গচ্চা যাওয়ার আশংকা জেলাবাসীর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল থেকে চন্দ্রগঞ্জ বাজার পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর অংশে ১৮ কিলোমিটার সড়কের ফোর লেনের ‘উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি)’ পাশ হয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রকল্পে চার লেনের একপাশে ২৪ ফুট করে ৪৮ ফুট এবং মাঝখানে ডিভাইডার হবে।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর-নোয়াখলাী মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফরিদপুর এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর সহ ১৫ থেকে ২০টি জেলার মানুষদের এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। কয়েক লক্ষ লোকের চলাচলের মাধ্যম এ সড়কটি।
জন দুর্ভোগ লাগবে সরকার প্রায় তিন’শ বিশ কোটি টাকার ফোর লেনের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এ অবৈধ ড্রাম ট্রাকের অধিক ওভার লোডের কারণে উন্নয়ন কাজ গচ্চা যাবে বলে দাবি করেন সচেতন মহল। তাই এখন সময়ের দাবি অবৈধ ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণ অতি জরুরি হয়ে পড়ে।
সড়ক বিভাগের তথ্য মতে, সড়কের লোড মাত্র ২২ টন। কিন্তু অবৈধ বালুুবাহী ড্রাম ট্রাকের লোড হচ্ছে ৪৫ টন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নিলে সরকারের কয়েকশ’ কোটি টাকার প্রকল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে ছোট বড় ড্রাম ট্রাকের সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিকের অধিক। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ), লক্ষ্মীপুর অফিসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে গুটি কয়েক ড্রাম ট্রাকের। এরমধ্যে অনেক গুলো কাগজপত্রও নবায়ন করেনি ।
এছাড়াও বালুভর্তি দশ চাকার এসব ড্রাম ট্রাক চলাচলে রাস্তার আয়ুষ্কাল কমে যাচ্ছে। আবার সড়ক বিভাগের ফোর লেনের কাজের মান নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। যেমন নিন্মমানের ইট, বালি ও পঁচা আর্বজনা দিয়ে গর্ত ভরাট করে রাস্তার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দেখা যায়, দশ চাকার ড্রাম ট্রাকগুলো সদর উপজেলার মজুচৌধুরির হাট বালুঘাট থেকে ওভারলোড বালু নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন বাইপাস রাস্তা দিয়ে অবাধে চলাচল করছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিনের বেলা ড্রাম ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছেন না কেউ। চলাচলের সময় ট্রাকে থাকা ভেজা বালুর পানি দিয়ে রাস্তা ভিজে যাচ্ছে যার ফলে নতুন করে তৈরী হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা।

দিনের বেলা ড্রাম ট্রাক চলাছলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ফোর লেনের কাজের বালু সরবারাহের অজুহাত দেখিয়ে দশ চাকার ড্রাম ট্রাক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে অবৈধ ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া গতি ও অধক্ষ ড্রাইভারের কারনে চাকায় পিষ্ট ও মুখোমুখি সংঘর্ষে অনেক লোক নিহত হয়েছে।
লাইসেন্স ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাছলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ এর নেই কোন তদারকি। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান দেখিয়ে দায়মুক্ত হন লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, লক্ষ্মীপুর প্রসাশনে রদবদল হয় কিন্তু এ অবৈধ ড্রাম ট্রাকের ব্যাপারে সবাই নীরব। ড্রাম ট্রাক মালিক ও সমিতির সভাপতির লাগাম টেনে ধরা নাহলে সড়ক যেমন ধ্বংস হবে তেমনি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল আর দীর্ঘ হবে। একই সাথে ড্রাম ট্রাক মালিক ও সমিতির সভাপতিকে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন সচেতন মহল।
লক্ষ্মীপুর বিআরটি-এর সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নাম্বার ও ফিটনেস বিহীন ড্রাম ট্রাকসহ সকল ধরনের যানবাহনে বিরুদ্ধে অভিযান বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সম্ভব না।

লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন বলেন, আমাদের সড়কের ফিটনেস মাত্র ২২ টন। কিন্তু বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের লোড হচ্ছে প্রায় ৪৫ টন। তাই অতিরিক্ত ওভার লোডের কারণে রাস্তার আয়ুষ্কাল কমে যাচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে সড়কে ওভার লোড মাপার জন্য স্কেল বসানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন