আমার দায়িত্ব পালনকালে এই ট্রাইব্যুনালের কোনো প্রসিকিউটর বা ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নবনিযুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা প্রমাণ করে দেবো, এই ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্ত। এখানে আন্তর্জাতিক মানের বিচার অনুষ্ঠিত হবে। বিচারের বাইরে অন্য কোনো আলোচনা আমরা প্রশ্রয় দেবো না। মঙ্গলবার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা চাই একেবারেই আইন অনুযায়ী এই ট্রাইব্যুনাল পরিচালিত হোক। গতি বাড়ার সঙ্গে আরও স্বচ্ছতা বাড়ুক, সেটাই আমরা চাই। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী মামলাগুলোর বিচার যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, সেসব বিষয়ে আলোচনা করেছি প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে। আশা করছি, খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে ২৪টি মামলার ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি মামলার ট্রায়াল চলছে দুটি ট্রাইব্যুনালে। যদিও এ মামলাগুলোর বিষয়বস্তু এখনও দেখিনি। এজন্য সবগুলো আমার কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যদি মনে হয় তদন্ত যথাযথ হয়নি, কিংবা কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে, তাহলে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপরাধীকে টার্গেট করে তদন্ত ও বিচার করা হবে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা কোনো নিরপরাধ মানুষ কিংবা রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করে এমন কোনো কার্যক্রম চালাবো না। আমাদের মূল লক্ষ্যই থাকবে প্রকৃত অপরাধীরা।
প্রসিকিউশন টিমের কিছু অভিযোগ নিয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। সব ধরনের মামলার বিষয়বস্তু বুঝতে হবে। যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেসবও তদন্ত করে দেখতে হবে। এরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। উল্লেখ্য, গতকাল সকালে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মামলাসহ ট্রাইব্যুনালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রসিকিউশন টিমের সব সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেন নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ দিক দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি তাজুল ইসলামের: আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আমি এবং প্রসিকিউশন টিমের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল স্বচ্ছ এবং আইনানুগ। দায়িত্বে থাকতে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে তা প্রমাণে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গতকাল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তাজুল বলেন, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটরের বরাতে আমার ব্যাপারে কিছু বিদ্বেষপ্রসূত ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
এ সব বক্তব্য জঘন্য মিথ্যাচার, তথ্য-প্রমাণবিহীন। ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার দুরভিসন্ধি থেকে এসব করা হয়েছে। এসব বিদ্বেষপ্রসূত ও অভিযোগগুলো সর্বোতভাবে মিথ্যা। আমি চ্যালেঞ্জ করছি- আমার ব্যাপারে আনীত এসব অভিযোগের স্বপক্ষে সামান্য তথ্য-প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না। পতিত স্বৈরাচার ও গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া থেকে দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে সংগঠিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। যেন কোনোভাবে এ বিচার আর অগ্রসর না হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর। তাজুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বকালে কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাননি। কিন্তু বিদায় নেয়ার পর গণহত্যাকারীদের সুবিধা দেয়ার জন্য এসব অভিযোগ তুলে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিশেষ একটি মহল। অতএব সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের মিথ্যাচার ও ঘৃণ্য অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।
ট্রাইব্যুনালে ফের জামিন চাইলেন আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন: জামিন আবেদনের জন্য দাখিলকৃত নথিপত্র সন্দেহজনক হওয়ায় জামিন মেলেনি লক্ষ্মীপুরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীর। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং চররুহিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ আবেদন করেন তার আইনজীবী। এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ক্যান্সার আক্রান্ত বলে একজনের জামিন নিয়েছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। কিন্তু পরবর্তীতে মনে হয়েছে তারা যেসব নথিপত্র দেখিয়ে জামিন নিয়েছেন, সেসব সন্দেহজনক। এজন্য ট্রাইব্যুনালকে বলেছি তারা যেগুলো দিয়েছে, সেগুলোর যথার্থতা দেখতে হবে। একইসঙ্গে আমরা সময় চেয়েছি। এরপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২রা মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীসহ ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি তিনি। গত ১১ই জানুয়ারি পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথমবারের মতো জামিন পান হুমায়ুন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মানবিক বিবেচনায় তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়া হয়েছিলো। তবে অন্য আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় কারাগারেই ছিলেন তিনি।
