কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় মাদকাসক্ত ছোট ভাইয়ের মারধরে বড় বোনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. সানাউল্লাহ (২৮) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। শনিবার মাদকের টাকা চেয়ে তার অসুস্থ বড় বোন রাজিয়া আক্তার (৩৫)কে মারধর করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন সানাউল্লাহকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার লুবনা এবং তিতাস থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সানাউল্লাহকে মাদক সেবনের দায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এরপর শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গুরুতর আহত রাজিয়া আক্তার মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, মাদকের টাকার জন্য সানাউল্লাহ তার বড় বোনকে মারধর করে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশ ও প্রশাসনকে খবর দেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই আবার খবর পাই, আহত রাজিয়া আক্তার মারা গেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার লুবনা বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে সানাউল্লাহর বাবা আব্দুস সামাদের সঙ্গে কথা বলি। তিনি জানান, সানাউল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের মারধর করতো। ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। নিহত রাজিয়া আক্তারের বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, সানাউল্লাহ আমার ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। প্রায়ই আমাকে ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করতো। আজ আমার অসুস্থ মেয়েটাকেও মারধর করে মেরে ফেলেছেÑ এ কথা বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
