এখনো ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির দাবি, সরকার রাজস্ব ছাড় দিলেও বাজারে চাল, সয়াবিন তেলসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কমেনি; বরং কিছু পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন।
তিনি বলেন, এবারের বাজেটে ধান, চাল, গম, আটা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পিয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্য তেল, বীজসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের ভোজ্য তেলের উৎসে করও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল কর কমানোর ফলে আমদানি ও বাজারজাতকরণ ব্যয় কমবে এবং তার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়বে। কিন্তু বাস্তবে সেই সুবিধা ভোক্তারা পাচ্ছেন না।
নাজের হোসাইন বলেন, বাজেট ঘোষণার পর ক্যাব প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছিল এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সুফল পাবে বলে আশা করেছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বর্তমানে বাজারে থাকা পণ্য আগের বেশি দামে আমদানি করা হয়েছে। নতুন চালান এলে তখন দাম কমতে পারে। অথচ যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, সেগুলোর দাম কম দামে আমদানি হলেও ইতিমধ্যে বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের দ্বৈত নীতি স্পষ্ট হয়েছে। ক্যাব বলছে, বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা কমছে না। সরকারও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালনের পরিবর্তে আগের মতো ব্যবসায়ীবান্ধব অবস্থানে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে তাদের প্রতি নমনীয় আচরণ করছে। এতে ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাজেটে আমদানি করা সব ধরনের মসলা ও খেজুরের ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও এর সুফল এখনো বাজারে দৃশ্যমান নয়। বরং দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামসহ বেশ কয়েকটি মসলার দাম বেড়েছে। খেজুরের দামেও কর ছাড়ের ইতিবাচক প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।
সরকার কর ছাড় দিয়ে রাজস্ব আয় কমিয়েছে, কিন্তু সেই সুবিধা যদি সাধারণ ভোক্তা না পান, তাহলে এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। বাজেট-পরবর্তী সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে কর কমানো পণ্যের দাম কমে আসবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত চালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ঘোষিত ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ কতোটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে বলেও মনে করে ক্যাব।
