বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইটের চেক ইন সম্পন্ন করে শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দর থেকে রহস্যজনক উধাও হয়ে যান ৬১ যাত্রী। শনিবার রাতে বিমানের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে এমন ঘটনা ঘটার পর মুহূর্তেই বিষয়টি জানাজানি হয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রীর চেয়ে কম যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি উড়াল দেয়। কিন্তু কেন ওই যাত্রীরা সবকিছু সম্পন্ন করার পরেও বিমানে ওঠেননি তা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। বিমানবন্দরের সূত্রগুলো বলছিল, ফ্লাইটটিতে মোট ২৬৩ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা ছিল। কিন্তু ওই ৬১ জনসহ মোট ৭৬ জন যাত্রী বিমানে ওঠেননি। ৭৬ জনের মধ্যে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসার সঙ্গে পাসপোর্টের মিল না থাকায় তাদের অফলোড করা হয়। এ ছাড়া ইমিগ্রেশন থেকে ১০ জন অফলোড করা হয়েছে।
এই সংবাদ শোনার পর পরই ওই ফ্লাইটের অনেক যাত্রী বিমানবন্দর থেকে সরে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন যাত্রীর কেউই বিমানে ওঠেননি। ইমিগ্রেশন পুলিশের একটি সূত্র বলছে, কোনো চক্রের যোগসাজশে এই ৭৬ যাত্রী মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। যারা ধরা পড়েছেন, তারা কাজ করতে যাচ্ছিলেন। সূত্র জানায়, ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে জাল ই-ভিসা শনাক্ত করার সুযোগ থাকে। যাত্রীদের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই না করেই ‘ভেরিফায়েড’ হিসেবে গ্রহণ করে বিমান সংস্থার চেক-ইন কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়। এরপর ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। অথচ বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের ভিসা জাল বলে ধরা পড়ে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ভিসা যাচাইয়ের একাধিক ধাপ থাকার পরও কীভাবে সন্দেহভাজন জাল ভিসাধারীরা চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন পার হয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছালেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বোর্ডিং চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পরে জানতে পারি, তাদের ভিসা নিয়ে সমস্যা পাওয়া গেছে। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরও কয়েকজন যাত্রীকে আর দেখা যায়নি। কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কয়েকজন যাত্রীকে অফলোড করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, মালয়েশিয়াগামী বিমানটিতে মোট ২৮৮ জন যাত্রী যাওয়া কথা ছিল। জাল ভিসার কারণে ইমিগ্রেশন থেকে ১০ জনকে এবং বোর্ডিং গেট থেকে ৫ জনকে অফলোড করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার পথে রওনা হয়েছে মোট ২১২ জন যাত্রী। বাকি ৬১ যাত্রীর অবস্থান পাওয়া যায়নি। তাদের রেখে ফ্লাইটটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে উড়ে যায়।
