রামগড়ে মসজিদ-মন্দিরের চাল নিয়ে ‘চালবাজি’

ফন্ট সাইজ:

রামগড়ে প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেয়ার কথা এক টন চাল। কিন্তু তার পরিবর্তে দেয়া হলো ৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি টন চালের বিপরীতে মিলেছে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা করে। রামগড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দের এক টন চালের বরাদ্দ থাকলেও তার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৭ ও ৯ হাজার টাকা করে ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে ২৭ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলরা অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাদ্দের চাল প্রতিটন ৩৩-৩৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে তাদেরকে দিয়েছেন ৭ হাজার ও ৯ হাজার টাকা হারে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম এ করিমকে অফিসে না পেয়ে প্রতিবেদক রোববার বিকালে ঘটনা জানার জন্য ফোন করলে রিসিভ করেনি।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রদত্ত ত্রাণ কার্যের (চাল) বরাদ্দ থেকে রামগড় উপজেলার জন্য ১২ টন, রামগড় পৌরসভার জন্য তিন টন ও দীঘিনালা উপজেলার জন্য ৮ টন চাল উপ-বরাদ্দ দেন জেলা প্রশাসক। এ ছাড়া একই সময়ে সরকারি-বেসরকারি এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম ও অন্যান্য সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মানবিক সহায়তা হিসেবে জেলার ৯ উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার জন্য মোট ৯৬ টন চাল উপ-বরাদ্দ দেন জেলা প্রশাসক। তারমধ্যে রামগড় উপজেলার জন্য ১০ টন ও পৌরসভার জন্য ৫ টন চাল বরাদ্দ হয়। গত ১৫ই জুন জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে এ উপ-বরাদ্দ দেন বিতরণের জন্য। জানা যায়, রামগড় উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নামে এক টন হারে চাল বরাদ্দ করেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছ থেকে বরাদ্দপত্র গ্রহণের পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্য গুদামের মাধ্যমে বরাদ্দ করা চালের ছাড়করণ হয়।

অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের এক টন চালের বদলে নগদ ৯ হাজার ও ৭ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। ১২টি মসজিদ ও নূরানী মাদ্রাসায় চাল না দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নগদ ৯ হাজার টাকা, ১০টি মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারের দায়িত্বশীলদের সাত হাজার টাকা হারে প্রদান করা হয়। অন্যদিকে একটি মাদ্রাসায় দেয়া হয় ২০ হাজার টাকা। রামগড় পৌরসভার তালিমুল কোরআন নূরানী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাদ্রাসার নামে এক টন চাল বরাদ্দ হলেও পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) মাদ্রাসার এক শিক্ষককে অফিসে ডেকে নিয়ে ৯ হাজার টাকা দিয়েছেন।’ একই অভিযোগ করেছেন, বালুখালি বাহারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানার সভাপতি ওসমান গণি, বলিটিলা তালিমুল কোরআন মাদ্রাসার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, সোনাই আগা কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

ধনঞ্জয় ত্রিপুরাসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষক। তারা জানান, ‘পিআইও বরাদ্দের চাল বাজারে প্রতি টন ৩৩-৩৪ হাজার টাকা হারে বিক্রি করেছেন। অথচ আমাদের কাউকে দিয়েছে ৯ হাজার টাকা, আবার কাউকে ৭ হাজার টাকা।’ বালুখালি বাহারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওসমান গণি অভিযোগ করে বলেন, ‘বালুখালি আলো তালীমুল কোরআন মাদ্রাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে এক টন বরাদ্দ দেয়া হলেও এ নামে ওই এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নাই। রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম এ ব্যাপারে বলেন, ‘মৌখিকভাবে এ অভিযোগ পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তদন্তক্রমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন