নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়ার ছেলে। জানা যায়, আল ফালাহ নামে স্থানীয় একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে মারধর করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে একদল স্থানীয় লোক তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পরিবারের কাছে রেখে যাওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা লাঠিসোটা হাতে এলাকায় ভাঙচুর চালায় বলেও জানান স্থানীয়রা। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাওছার আহমেদ বলেন, “জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। শনিবার নতুন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে।” এদিকে, ঘটনার পর একটি ভিডিওতে কাওছার আহমেদকে বলতে শোনা যায়, “যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তাও আমাদের কিছু করতে পারবো না।
পাবলিক যদি কোনো কুত্তা মেরে ফেলে তাহলে কি অন্যায় হবে? ইনশাআল্লাহ কোনো মামলা-হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনা তদন্তাধীন। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে অন্য কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
