জুলাই হত্যা মামলায় হ-য-ব-র-ল

সহযোগীদের খবর

জুলাই হত্যা মামলায় হ-য-ব-র-ল

ফন্ট সাইজ:

দেশ রূপান্তর

দৈনিক রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘জুলাই হত্যা মামলায় হ-য-ব-র-ল’। খবরে বলা হয়, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত নিয়ে চলছে তুঘলকি কাণ্ড। গণহারে আসামি করা, মিথ্যা অভিযোগ, মামলা বাণিজ্য, বাদী-বিবাদীর পরিচয় জটিলতাসহ নানামুখী জটিলতায় দিশেহারা পুলিশ। তদন্তে নেমে দেখা যাচ্ছে অনেক মামলার বাদী আসামিদের নাম-পরিচয় পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারছেন না। আবার মৃত ব্যক্তিসহ ঘটনাস্থলের ত্রি-সীমানাতেও না থাকা অসংখ্য ব্যক্তির নাম রয়েছে এজাহারে। মামলার আসামি করা নিয়ে ‘বিপুল বাণিজ্যের’ অভিযোগও জোরদার হচ্ছে। থানার পাশাপাশি পুলিশের কয়েকটি ইউনিট এসব মামলার তদন্ত করছে। একজন তদন্তকারী কর্মকর্তার কাঁধে গড়ে ১০টিরও বেশি মামলা দায়িত্ব থাকায় হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এর মধ্যে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ তৈরি হয়েছে দিশেহারা অবস্থা।

ইতিমধ্যে মিথ্যা মামলা করায় ১০২ জন বাদীর বিরুদ্ধে উল্টো ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে এসব মামলার অভিযোগের কোনো ভিত্তিই নেই। এমনকি জীবিতকে মৃত দেখিয়ে মামলা করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অনেক মামলার বাদী ও আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের গুলিতে সাড়ে ৮০০-এর মতো মানুষ প্রাণ হারান বলে সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে। এসব ঘটনায় সারাদেশে ৮০০-এর মতো হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ হয়েছে ৩৫৪টির। আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে ১১৫টি মামলার। বাকি মামলার তদন্ত কবে শেষ হবে সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, ঘটনার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ মামলা এবং পুলিশের কাঠামোগত দুর্বলতায় অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ওপর বহুমুখী চাপ, রাজনৈতিক তদবিরও তৈরি করছে বাড়তি জটিলতা।

৬৪ শতাংশ মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ নেই: আদালতে দায়েরের পর পিবিআইর কাছে পাঠানো ২৭২টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলোর মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশের ক্ষেত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ১৪২টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর আদালতে তা নিষ্পত্তি হয়েছে। মাত্র ৯০টি মামলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পিবিআইর কাছে আসা মামলাগুলোর মধ্যে মিথ্যা মামলার সংখ্যা ১৪টির মতো। বাদীর অসহযোগিতা ও সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাব রয়েছে তিনটিতে। অন্যদিকে থানা থেকে পিবিআইর কাছে আসা ৭৭টি মামলার মধ্যে ৩৭টিই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ৪০টির তদন্ত চলমান। ঢালাও আসামি থাকায় এসব মামলার সুরাহা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, এ ধরনের মামলা নিয়ে প্রচণ্ড হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঢালাওভাবে প্রতিটি মামলায় শত শত ব্যক্তিকে আসামি করায় জটিলতায় পড়ছে তদন্ত। বিভিন্ন হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে সারা দেশে অভিযান চলছে। এসব অভিযানে নিরপরাধ লোকজনও গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকারও হচ্ছেন। অনেক জায়গায় আসামি ধরার নামে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগের কারণে ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছে পুলিশ।

আসামির নাম-ঠিকানা জানতেই দুই বছর: ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে গুলিতে নিহত হন ইমন হোসেন আকাশ। ওই বছরের ২৭ আগস্ট ৬৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০০-৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার মা। নাম উল্লেখ করা আসামিদের ঠিকানা ও পরিচয় খুঁজতেই কেটে গেছে প্রায় দুই বছরের মতো। তদন্তে তাদের মধ্যে ৫৪৯ জনের বিরুদ্ধে দূরবর্তী কোনো সংশ্লিষ্টতাও মেলেনি। আবার বাদী ও সাক্ষীদের জবাববন্দিতে এসেছে দুই ধরনের তথ্য। এ ধরনের মামলার তদন্ত শেষ করে কবে অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে সে ব্যাপারে তদন্তকারী সংস্থার কোনো ধারণা নেই।

বাদীর সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ: অভিযোগ উঠেছে, এখনো নানাভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা করার চেষ্টা চলছে। এমনকি টার্গেট করেও হয়রানিমূলক মামলা হচ্ছে। থানা পুলিশের বিরুদ্ধে বাদীর সঙ্গে যোগসাজশ করে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠছে। বিএনপি নেতাকে আওয়ামী লীগ নেতা বানিয়ে মামলা করার মতো ঘটনাও ঘটছে। চট্টগ্রামের বাকলিয়ার সাকিব হত্যায় যুবদল ও ছাত্রদলের ১৫ নেতাকর্মীকে যুবলীগ নেতা সাজিয়ে আসামি করা হয়েছে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আনিস সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলেছেন। পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে। মামলাটি করেছিলেন সাকিবের মা ফিরোজা বেগম।

আবার সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের টার্গেট করেও অনেক মামলা হয়েছে। এসব মামলা থেকে রেহাই পেতে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন নিরপরাধ ব্যক্তিরা। পুলিশ সদর দপ্তর অবশ্য বলছে, কোনো মামলার তদন্তে পুলিশ ‘বেআইনি’ কিছু করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১০২ বাদীর বিরুদ্ধে ভুয়া মামলার অভিযোগ : আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় আল-আমিন নামে এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার তথ্য দিয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন তার স্ত্রী কুলসুম বেগম। তবে পুলিশের একটি সংস্থা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়, আল-আমিন মারা যাননি। একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তির প্ররোচনায় কুলসুম বেগম মিথ্যা মামলাটি করেন। এ মামলার আসামিদের তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে অনেকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন কুলসুম। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এখন তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজধানীর উত্তরায় ছাত্র আন্দোলনের সময় মারা যান মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ নামে একজন গাড়িচালক। এ ঘটনায় আসাদুল্লাহর মা মামলা করেন। তবে পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছে, যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না। আসাদুল্লাহর স্ত্রী ফারজানা পুলিশকে জানিয়েছেন, মামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

মৃত ব্যক্তিদের নাম এজাহারে : পুলিশ সদর দপ্তর ও সিআইডির উচ্চপদস্থ দুই কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়েকটি মামলায় জীবিত ব্যক্তিকে শহীদ দেখিয়ে হত্যা মামলা করা হয়। এসব মামলার বাদীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করে একটি তদন্ত সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেশির ভাগ মামলাই হয়েছে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে। ঘটনার সময় দেশের বাইরে থাকা অনেকের নামও আছে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা মামলায়। কোনো কোনো মামলায় মৃত ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বরিশালে একটি মামলার তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছি, সেখানে আওয়ামী লীগের ২৪৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলায় মৃত চার নেতাকর্মীর নামও আছে। মামলাটি করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আলোচিত সাবেক নেতা মারজুক আব্দুল্লাহ। এজাহারের ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর মারা যান ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি। ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুক মারা যান ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মারা যান ২২৫ নম্বর আসামি হাফিজুর রশিদ এবং একই বছরের ২৬ জুলাই মারা যান ১৯৫ নম্বর আসামি আলী হাওলাদার। এভাবেই মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হচ্ছে।’

মিথ্যা মামলার অজস্র প্রমাণ : পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিটের তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট ঢাকার দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। তদন্তে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিচয় না থাকার পরেও প্রতিষ্ঠিত এক ব্যবসায়ীকে এতে আসামি করা হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে গত ১০ বছরেও তার গ্রামের বাড়িতে যাননি। জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি ব্যবসার কাজে সিঙ্গাপুর ছিলেন।

পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ মামলার বাদী শাজাহান মাঝি। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি বলেছেন, আসামিদের অধিকাংশকেই চেনেন না। আওয়ামী লীগবিরোধী স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা যাদের নাম দিয়েছেন তাদেরই আসামি করা হয়েছে। এখন আর ওই বাদীকেও আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।’

তদন্তে পুলিশের নাভিশ্বাস: জুলাই হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন থানায় বহু মামলা হয়। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার সংখ্যার তুলনায় তদন্তকারী কর্মকর্তার সংখ্যা সীমিত। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, থানাগুলোতে কর্মরত একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) বা পরিদর্শককে (ইন্সúেক্টর) গড়ে ১০ থেকে ১২টি পর্যন্ত হত্যা মামলার তদন্ত করতে হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ডিজিটাল ফরেনসিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়াসহ নিবিড় কাজের প্রয়োজনের বেশি সময় লাগছে। তাছাড়া এজাহার থেকে নাম সরানোর তদবিরে জড়িয়ে পড়েছে একশ্রেণির দালাল চক্র। অপরাধী না হয়েও আসামি হওয়ায় অনেকে লাখ টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩-এ ধারা অনুযায়ী মামলার অভিযোগ থেকে আদালত কাউকে অব্যাহতি দিতে পারে। মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমার সময় প্রকৃত আসামিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম।’

মামলা বাণিজ্য ও হয়রানির ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব জায়গায়ই ভালোমন্দ মিলেই আছে। আমরা কেউ ফেরেশতা না। তবে স্পেসিফিক্যালি পুলিশের লোক জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যথাসম্ভব শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বিষয়টি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্র-আন্দোলনের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরপরাধ কেউ যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি।’

প্রথম আলো

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-বরাদ্দে নতুন নিয়ম, শিক্ষকেরা অসন্তুষ্ট’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। নতুন সিদ্ধান্ত হলো গবেষণা মঞ্জুরির অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে না। এ অর্থ ব্যয় হবে ইউজিসির মাধ্যমে।

নতুন নিয়ম নিয়ে অসন্তুষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকেরা। তাঁরা বলছেন, এই নিয়ম শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা সংকুচিত করবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম মনে করেন, বরাদ্দ ইউজিসি থেকে নিয়ন্ত্রিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কমে যাবে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হয়তো মুষ্টিমেয় লোক গবেষণা করবেন, কিন্তু নিয়মিত গবেষণা থেমে যাবে। এ সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতাকেও বাধাগ্রস্ত করবে। ফলে এটা হতেই পারে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, গবেষণায় বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি ৯ জুলাই ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য তুলে ধরবেন।

কী পরিবর্তন, কেন পরিবর্তন

ইউজিসি দেশের উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সংবিধিবদ্ধ এই সরকারি প্রতিষ্ঠান সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করে থাকে। বর্তমানে ইউজিসির অধীন আছে ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে সরকারের অনুদানের অংশ বরাদ্দ আসে ইউজিসির মাধ্যমে।

ইউজিসির ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রায় ৪ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গত ২৯ জুন। এর মধ্যে সরকার ইউজিসির মাধ্যমে দিচ্ছে ৯৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি অর্থ বছরের ব্যয়ের প্রায় ৯২ শতাংশ সরকার অনুদান দিয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৮৫ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি থাকছে ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

দেশের প্রাচীনতম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে অপ্রতুল বরাদ্দ নিয়ে প্রতিবছর নানা আলোচনা হয়। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণার জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল ইউজিসি। কিন্তু নতুন নিয়মের কথা বলে এবার গবেষণা খাতে কোনো অর্থই বরাদ্দ করেনি তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটের বাজেট অধিবেশনে ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সরকারের প্রতিনিধির উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা গবেষণা খাতে বরাদ্দ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেখানে কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতামত গ্রহণ করেছেন?’

জবাবে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সভায় থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শারমিনা নাসরীন বলেন, এটি সরকারি সিদ্ধান্ত।

যোগাযোগ করা হলে ২ জুলাই শারমিনা নাসরীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গবেষণার বরাদ্দটি কেন্দ্রীয়ভাবে ইউজিসির মাধ্যমে ব্যয় করার বিষয়টি এ বছর থেকেই সরকারি সিদ্ধান্তে চালু হয়েছে। অনুদান বন্ধ হয়নি, শুধু অনুদান বরাদ্দের পদ্ধতি পরিবর্তন হয়েছে। এটা পরীক্ষামূলকও হতে পারে।’ তবে এ ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে ৩ জুলাই একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে ইউজিসি। সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে ইউজিসি ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন পদ্ধতি আরও সহজ, স্বচ্ছ ও গবেষকবান্ধব করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বকীয়তা, গবেষণার অগ্রাধিকার ও বিষয়ভিত্তিক বৈচিত্র্য ক্ষুণ্ন হবে না।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য গবেষণা খাতে বরাদ্দের জন্য সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা পরিকল্পনা, উপখাতভিত্তিক অর্থের চাহিদা এবং বাজেট প্রাক্কলন দ্রুত কমিশনে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ২ জুলাই চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ইউজিসি।

বিষয়টি নিয়ে ইউজিসির উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, মূলত অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে এবার গবেষণার বরাদ্দ ইউজিসির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের যুক্তি হচ্ছে, বরাদ্দটা বিক্ষিপ্তভাবে হলে নানা সমস্যা তৈরি হয়। এই অর্থের দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে ইউজিসির মধ্যেও একধরনের অস্বস্তি ছিল। তবে এই বরাদ্দ যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যাতে না থাকে, সে জন্য ইউজিসির সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, বিগত বছরগুলোয় ইউজিসি তাদের গবেষণা তহবিল বেশ কার্যকারিতার সঙ্গে ব্যয় করেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না বলে অভিযোগ এসেছে। মূলত এ কারণেই বরাদ্দ কেন্দ্রীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বর্ষায় ডোবে ঢাকার ১০৩ স্পট’। খবরে বলা হয়, মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হলেই ঢাকা মহানগরীর অন্তত ১০৩টি স্পট ডুবে যায়। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করেপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ৬৫টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ৩৮টি স্পট রয়েছে। এসব জায়গার সড়ক, ফুটপাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা তলিয়ে থাকায় নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কি কারণে এই পানি জমছে তা সবার জানা। কি করলে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে, তাও জানা। তারপরও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা ওয়াসা হতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ৫ বছরের বেশি পার হলেও এ কাজের জন্য স্বতন্ত্র বিভাগ ও জনবল কাঠামো অনুমোদন হয়নি। প্রকৌশল বিভাগের বিদ্যমান জনবল দিয়েই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এভাবে সংকটের আশু সমাধান সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট অনেকে জানিয়েছেন।

ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ড্রেনেজ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী একেএম সহিদ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মহানগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে হলে পানি নিষ্কাশন সিস্টেমটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রধানত দরকার-আন্তরিকতা, সুপরিকল্পিত উদ্যোগ ও এর বাস্তবায়ন। তবে এতে ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আশকোনা, দক্ষিণখান প্রধান সড়ক, গণ-কবরস্থান রোড, প্রেম বাগান আশকোনা, মধ্য আজমপুর, কাঁচকুড়া হতে ময়নারটেক, আঁটিপাড়া, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থ বাটাগলি, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিকেল রোড ও তালতলা রোড, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল্লাহপুর প্রধান সড়ক, ডুমনি বাজার হতে ৩০০ ফুট সংলগ্ন সড়ক, ভাটারা মন্দির রোড, ঢালি বাড়ি রোড, ব্যাপারীবাড়ি রোড, লতিফ খন্দকার রোড, সাতারকুল প্রধান সড়ক, আনন্দ নগর, পশ্চিম পদরদিয়া, পোস্ট অফিস রোড, পূর্বাচল লেন ২২, ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬ এবং বসিলা সড়ক।

ডিএসসিসির ৩৮ হটস্পট : ভারি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩৮টি স্পটে। এগুলো হলো-ধানমন্ডি ২৭, গ্রীন রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নায়েম রোড, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, পলাশী এসএম হলের সামনে, সাকুরা মার্কেটের সামনে, মোকাররম ভবনের সামনে, পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার হতে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, আনন্দ বেকারি, মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্পের সামনে, টিটিপাড়া ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে, মুগদা মেডিকেল কলেজের সামনে, গোপীবাগ বড় মসজিদের সামনে, কমলাপুর রেল স্টেশনের সামনে, শাপলা চত্বরের উত্তর পাশে ফুটওভার ব্রিজের সামনে, নটর ডেম কলেজের সামনে, চারমারির মোড়; সবুজ কানন-১, ২ ও ৩ নম্বর গলি; মালিবাগ প্রথম লেন, শান্তিবাগ ১৭ নম্বর গলি, পল্টন, দৈনিক বাংলা, ফকিরেরপুল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামনের এলাকা, বুয়েট কোয়ার্টারসংলগ্ন এলাকা, আগাসাদেক রোড, মাজেদ সরদার রোড, অভয়দাস লেন, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন, মুন্সিবাড়ি পাইপ রোড, সায়েদাবাদ টার্মিনালের দক্ষিণ পাশের সড়ক ও জিয়া সরণি।

জলাবদ্ধতার কারণ : সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো- ১. সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু না হওয়া ২. পানি ধারণের জায়গা ভরাট ৩. পানি নিষ্কাশন চ্যানেল দখল ও ভরাট ৪. খালকে বক্স কালভার্ট করায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত ৫. পানি নিষ্কাশনে সিটি করপোরেশনের অদক্ষতা এবং জনবলের অভাব ৬. ঢাকার পাশ্বর্বর্তী এলাকার পানি ধারণ এলাকা কমে যাওয়া ৭. পানি নিষ্কাশনে অপর্যাপ্ত আউটলেট ৭. ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির পানি বের হতে না পারা ৮. পানি নিষ্কাশন ড্রেন ও চ্যানেলগুলো আবর্জনায় ভরে যাওয়া ৯. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হওয়া।

প্রতিকারের উপায় : বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে জরুরি ভিত্তিতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া দরকার। সেগুলো হলো-১. ঢাকা ওয়াসা প্রণীত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান ২০১৬ কে যাচাই-বাছাই করে বাস্তবায়ন করা ২. ক্যাচপিট, ড্রেন, চ্যানেল হয়ে পানি পাম্প স্টেশন পর্যন্ত নির্বিঘ্নে যাওয়ার ব্যবস্থা করা ২. পাম্প স্টেশনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো ৩. দুই সিটির পানি নিষ্কাশনের স্বতন্ত্র বিভাগ ও দক্ষজনবল তৈরি ৪. হটস্পট চিহ্নিত করে সেসবের সমাধান করা ৫. ড্রেনেজ রক্ষণাবেক্ষণ করা ৬. ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ৭. স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেম গড়ে তোলা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাবিকুল ইসলাম হাসান যুগান্তরকে বলেন, নগরবাসীই পানি নিষ্কাশন চ্যানেল, ড্রেন, জলাশয় দখল ও ভরাট করছে। যা পরিষ্কার করতে সিটি করপোরেশন হিমশিম খাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পয়োবর্জ্য সংযোগ লাইন পানি নিষ্কাশন ড্রেনের সঙ্গে-এজন্য ড্রেন ভরাট হয়ে যায়। এছাড়া খেয়াল-খুশিমতো আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। তবে এসব সামাল দিয়ে জলাবদ্ধতার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতার সমাধান করতে হলে ক্যাচপিট, ড্রেন, পাম্পিং স্টেশন বাড়ানোর পাশাপাশি আশপাশের নদ-নদী পরিষ্কার করে ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় যে সংখ্যক পাম্পিং স্টেশন রয়েছে, তা চাহিদার তুলনায় কম। এজন্য পাম্পিং স্টেশনের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

কালের কণ্ঠ

‘প্রতিশোধ নয়, ঐক্য’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘যদি আজ আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, গত ১৭ বছরে তাঁর ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তিনি কি তার প্রতিশোধ চান? আমি নিশ্চিত, তিনি বলতেন—প্রতিশোধ নয়, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাও।’

গতকাল শনিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয় সে বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। সবার উদ্দেশে আমি বলতে চাই, আপনাদের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশে শুধু আমার দলেরই নয়, অন্যান্য আরো রাজনৈতিক দল এবং একই সঙ্গে যেসব অরাজনৈতিক ব্যক্তি যাঁরা ৫ আগস্ট (ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন আন্দোলন) সফল করেছিলেন, তাঁদের সবার কাছে বলতে চাই যে, আসুন আমাদের প্রতি, বাংলাদেশের লক্ষ-কোটি মানুষের প্রতি স্বৈরাচার যেমন অবিচার করেছিল, বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয় সে বিষয়টিতেও সচেতন থাকতে হবে।’

‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি’র যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আহত আল মিরাজ, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সবার জন্য রাখা স্মৃতি স্মারক তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

জুলাইয়ে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছি, রাষ্ট্র তার যথাসাধ্য দিয়ে আপনাদের মূল্যায়নের চেষ্টা করবে।

আপনাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করবে। কিন্তু একই সঙ্গে আপনাদের আত্মত্যাগকে যে রকম মূল্যায়ন করবে, আপনাদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় হয়েছে, যেভাবে আপনার আপনজনকে হত্যা করা হয়েছে, অবশ্যই তার জন্য যারা দায়ী তাদেরও বিচার হবে এই দেশের আইনে।’

এই অর্জন দল-মত-নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী শান্তিপ্রিয় মানুষের: তারেক রহমান বলেন, ‘আমি সব সময় বলে থাকি, ৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা কমরছি, এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তি, কোনো একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয় বরং এই অর্জন দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী শান্তিপ্রিয় মানুষের অর্জন। এই অর্জন করতে গিয়ে আপনাদের যাঁরা ওপরে বসে আছেন, এই পাশে যাঁরা বসে আছেন। তাঁরা প্রত্যেকে যদি আপনাদের ডান দিকে একটি ব্যানারের দিকে তাকান, সেখানে লেখা আছে।

জুলাইয়ের শহীদ হওয়া সর্বকনিষ্ঠ ফুলগুলো। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ৬৫ জন শিশু সেদিন শহীদ হয়েছিল। তাদের কি কোনো অপরাধ ছিল? তাদের অপরাধ ছিল না। কিন্তু দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে যেভাবেই হোক এই শিশুগুলো সেদিন জীবন দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করে গেছেন যে, জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ সেদিন শহীদ হয়েছিলেন। সেই উত্তাল দিনগুলোতে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমার পক্ষে, আমি যতটুকু বিভিন্নভাবে শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও বিভিন্নভাবে খোঁজ করছিলাম আমার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে। অনেকে অনেক হিসাব দিয়েছেন। কিন্তু আমার হিসাবের মতে শুধু জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে দুই হাজারের মতো মানুষ, ৩০ হাজারের মতো মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সার্বিকভাবে।’
সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ঝুঁকি নিয়ে চালু হচ্ছে রূপপুর, কয়েকটি চুক্তি নিষ্পন্ন হয়নি’। খবরে বলা হয়, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সরকারের প্রত্যাশা, আসছে আগস্ট মাসের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তবে উৎপাদন শুকর আগমুহূর্তেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। এখনও হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ স্পেন্ট ফুয়েল অপসারণের চূড়ান্ত চুক্তি। নির্ধারিত হয়নি বিদ্যুতের দাম। বাকি রয়েছে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সমঝোতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে শুধু রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোড বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করাই একমাত্র সফলতা নয়; বরং এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উপযোগিতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই আসল চ্যালেঞ্জ।

আর্থিক বিবেচনায় দেশের একক বৃহত্তম এই প্রকল্প নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। রুশ প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই নির্মাণকাজ চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বেশ কিছু অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাচ্ছে। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি (স্পেন্ট ফুয়েল) মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ। এই ক্ষতিকর বর্জ্য রাশিয়া পুনর্ব্যবহারের জন্য ফেরত নিয়ে যাবে, নাকি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করবে-সে বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট। পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ার ব্যয়ভার কেমন হবে- তাও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) চূড়ান্ত না হওয়ায় বিদ্যুতের দাম নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কেন্দ্রটির পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তাবিত 'ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি' গঠনের প্রক্রিয়াটি এখনও অমীমাংসিত।

এই নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞের মতে, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে এই চুক্তিগুলো অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এখন তাড়াহুড়ো করে এগুলো করলে দীর্ঘ মেয়াদে ইতিবাচক ফল নাও আসতে পারে। তাই বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগেই চুক্তিগুলো সম্পাদন করে এর শর্তাবলি জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা জরুরি। গ্রিড ফ্রিকোয়েন্সি ওঠানামার ঝুঁকি এড়াতে রূপপুর কর্তৃপক্ষ ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে রিয়েল-টাইম সমন্বয় প্রয়োজন।

তবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান বলেন, 'আমাদের মূল ফোকাস এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন। দক্ষ জনবলের অভাব থাকায় সব কিছু একসঙ্গে করতে গেলে কোনোটিই মানসম্মত হবে না। তবে ফুয়েল নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তি আছে এবং ব্যবস্থাপনা চুক্তির কাজও অনেক দূর এগিয়েছে।' রাষ্ট্রীয় দুই কোম্পানির বিষয় হওয়ায় পিপিএ নিয়েও তিনি চিন্তিত নন।

তিনি জানান, কোনো ঘাটতি থাকলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়, তাই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী মাসের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে।

বিদ্যুতের দাম এখনও অজানা

দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগেই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে পিপিএ সম্পন্ন হতে হয়, যার ভিত্তিতে পাইকারি দাম বা ট্যারিফ নির্ধারিত হয়। তবে রূপপুরের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক উৎপাদন ঘনিয়ে এলেও এই চুক্তি সই হয়নি। পিডিবি প্রকল্পের মোট নির্মাণ ব্যয় ও পরিচালন খরচ চেয়ে বারবার চিঠি পাঠালেও রূপপুর কর্তৃপক্ষের সাড়া মেলেনি।
পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, পারমাণবিক কেন্দ্রের ট্যারিফ নির্ধারণ প্রক্রিয়া সাধারণ গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের চেয়ে জটিল, কারণ এখানে ঋণের কিস্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডিকমিশনিং ব্যয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি খাত যুক্ত থাকে।

ইত্তেফাক

‘দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের চিকিত্সা ব্যবস্থাপনা সামাল দেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন হাসপাতালে দ্বিগুণ হারে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভর্তি হচ্ছেন। বিদ্যমান শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগী প্রতিদিন চিকিত্সাধীন থাকে। দুর্ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী হাসপাতালে আসছে। এ সব রোগীর বেশির ভাগ তাত্ক্ষণিক চিকিত্সা ও অপারেশনের প্রয়োজন হয়। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বেডের তুলনায় দ্বিগুণ রোগী চিকিত্সা নিচ্ছে। হাম রোগীর চিকিত্সাসেবা সামাল দিতে গিয়ে ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে এ বছর ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব সামাল দেওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। হাম ও ডেঙ্গুর চিকিত্সা সামাল দিতে গিয়ে চিকিত্সাধীন অন্য রোগীদের চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। দেশের সর্ববৃহত্ চিকিত্সাসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সক, নার্স ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কাছে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, ২৬০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিত্সা নিচ্ছে পাঁচ সহস্রাধিক রোগী। এর মধ্যেই হাম রোগীদের চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু। প্রতিদিন হাম ও ডেঙ্গু রোগী আসছে। এ সব রোগীকে চিকিত্সাসেবা দিতে গিয়ে অধিকাংশ ডাক্তার ও নার্স কর্মচারীদের ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। বিরামহীনভাবে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৭২৯ জন। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পহেলা জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৫৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জন। এক সপ্তাহে বেশ কয়েক জন ডেঙ্গুজ্বরে মারা গেলেও অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তালিকায় তাদের নাম নেই।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, রাজধানীর বাসিন্দাদের ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এডিস মশা বংশবিস্তার হচ্ছে। এই মশা কামড়ালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হবে বলে কীটতথ্যবিদরা জানান। গত বছর দেশ জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে বরগুনা জেলাকে শনাক্ত করা হয়। গত বছর গ্রাম অঞ্চলে এডিস মশার বংশবিস্তারে ভয়াবহ পরিস্থিতি ধরা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রোগ তথ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছিল। অধিকাংশ সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ভয়ঙ্কর আর্থিক ঝুঁকিতে ১২২ সরকারি প্রতিষ্ঠান’। খবরে বলা হয়, দেশের ১২২টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান তীব্র আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা অপশাসন, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঞ্জীভূত দায়ের পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ২১৬ কোটি টাকায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক ‘আর্থিক ঝুঁকি বিবৃতি’ পর্যালোচনায় এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পর নতুন করে আর কোনো সমন্বিত ঝুঁকি বিশ্লেষণ না হলেও বর্তমানে এই সম্মিলিত দায়ের পরিমাণ ১০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্প ও বিমান খাতের আর্থিক বিপর্যয় এখন চরম পর্যায়ে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোট দায়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটিই রয়েছে সরকারের কাছে বকেয়া। ‘সাবসিডিয়ারি লোন অ্যাগ্রিমেন্ট’ (এসএলএ) এবং ‘লোন অ্যাগ্রিমেন্ট’ (এলএ)-এর অধীনে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বকেয়া দায়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৫০ হাজার ৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা মোট দায়ের ৪২.০১%। এর বাইরে ২০২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট প্রচ্ছন্ন দায়ের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৪৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ১২২টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান (এসওই) এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার সুশাসন ও কর্মক্ষমতার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলোকে ঝুঁকির মাত্রাভেদে নিন্মোক্তভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এতে খুব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯টি যার শতকরা হার ১৫%; উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০টি (২৫%); মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫০টি (৪১%); কম ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮টি (১৫%); আর একেবারে কম ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পাঁচটি (৪%)।

ঝুঁকিতে থাকা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম বড় সমস্যা হলো আর্থিক জবাবদিহিতার অভাব ও চরম অস্বচ্ছতা। ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) দেশের ৩৯২টি সরকারি কোম্পানি, সংস্থা, করপোরেশন ও কর্তৃপক্ষকে তাদের অডিট করা আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ২৮৪টি প্রতিষ্ঠানই প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এফআরসি কর্মকর্তাদের ধারণা, আর্থিক হিসাব সঠিকভাবে তৈরি না করার কারণেই প্রতিষ্ঠানগুলো তা জমা দিতে পারছে না। এমনকি অর্থ বিভাগের মূল্যায়নে থাকা ১২২টি প্রধান প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও অনেকেই সময়মতো অডিট রিপোর্ট দেয়নি।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিঘাত ও ঝুঁকির কারণ

অর্থ বিভাগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানাবিধ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে ‘এসওই’ বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

জিডিপি প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি: বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন খাতে সরকারি সেবার চাহিদা কমে গেছে, যা সরাসরি রাজস্ব আদায়ে আঘাত করছে।

মূল্যস্ফীতি ও ডলারের অবমূল্যায়ন: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং টাকা-ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতার কারণে উৎপাদন, পরিচালন এবং ঋণ পরিশোধের ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে।

উচ্চ সুদের হার: ব্যাংকিং খাতে উচ্চ সুদের হারের কারণে নতুন ঋণের সহজলভ্যতা সীমিত হয়ে পড়েছে, যা তারল্য সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করেছে।

নীতিগত ও আইনি জটিলতা: আইনি গ্যাঁড়াকলের কারণে সময়মতো শুল্ক বা ট্যারিফ (বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে) সমন্বয় করা যায় না। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে।

বণিক বার্তা

‘আর্থিক অপরাধের জন্য সবচেয়ে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকার বাংলাদেশেই’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, একসময় ‘ফাইন্যান্সের জাদুকর’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন লেবাননের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর রিয়াদ সালামেহ। বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরদের একজন তিনি।

১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ৩০ বছর তিনি এ দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু দায়িত্ব পালন শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই রিয়াদ সালামেহর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন ব্যাংকে ডু লিবানের এ গভর্নর।

গভর্নরের গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আরেকটি ঘটনা দেখা যায় অ্যাঙ্গোলায়। মধ্য আফ্রিকার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ভালতের ফিলিপে দা সিলভা ২০১৭ সালে বরখাস্ত হন। তার বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ব্যাংক অব অ্যাঙ্গোলা থেকে ৫০ কোটি ডলার অবৈধভাবে বিদেশে স্থানান্তরের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। ২০২০ সালে তিনি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। এ মামলায় তার সঙ্গে দেশটির আরো কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন অ্যাঙ্গোলার সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলেও।

উন্নয়নশীল কিংবা দরিদ্র দেশের পাশাপাশি চলতি শতাব্দীতে জার্মানির মতো উন্নত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক গভর্নরের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ২০০৪ সালে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ডয়চে বুন্দেসব্যাংক) প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন আর্নস্ট ভেলটেক। অভিযোগ ছিল, একটি বেসরকারি ব্যাংক বার্লিনের কোনো বিলাসবহুল হোটেলে এ গভর্নর ও তার পরিবারের থাকার খরচ (প্রায় ৭ হাজার ৭০০ ইউরো) বহন করেছিল। ফ্রাংকফুর্টের প্রসিকিউটররা এ বিষয়ে তদন্ত করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে এ ঘটনায় ভেলটেককে ২৫ হাজার ইউরো জরিমানা গুনতে হয়েছিল।

বিশ্বের অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কিংবা জ্যেষ্ঠ অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি কিংবা স্বার্থের সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগ উঠলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো এত বিস্তৃত অভিযোগ কোথাও পাওয়া যায় না। ২০০৯ সাল-পরবর্তী দেড় দশকজুড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকারী তিন গভর্নরের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। এ গভর্নরদের সঙ্গে তদন্তের জালে জড়িয়েছেন বিভিন্ন সময়ের সাতজন ডেপুটি গভর্নর, অনেক নির্বাহী পরিচালকসহ অন্তত ৫৫ জন কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত, সম্পদ জব্দ ও নথিপত্র তলবের মতো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর (এস কে) চৌধুরী ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাস গ্রেফতার হয়েছেন। সাবেক গভর্নরদের মধ্যে ড. আতিউর রহমান ও আব্দুর রউফ তালুকদারের কোনো হদিস নেই। আর অনেক সাবেক ডেপুটি গভর্নরও লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় সারা বিশ্বেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বা প্রধানরা জাতীয় নায়কের সম্মান পেতেন। এ পদে নিযুক্তরা ছিলেন এমন ব্যক্তি, যাদের বক্তব্য বাজারে আস্থা তৈরি করত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারাও বাড়তি সম্মান ও মর্যাদা পেতেন। কিন্তু ‘সেলিব্রিটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকারের যুগ’ বিশ্বব্যাপীই শেষ হতে চলেছে। আর বাংলাদেশে সে ইমেজ বাড়তি সংকটে। পতিত আওয়ামী লীগের শাসনামলে ব্যাংক লুটে অলিগার্কদের সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারাও অস্বস্তিতে পড়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানের অভিজ্ঞতা ও মন্তব্য সে রকমই। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেকোনো দেশের ব্যাংক তথা আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক। এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো ব্যাংক খাতের অভিভাবকত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখা। এখন যদি গভর্নরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করে, নীতিনির্ধারকদের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে জনগণের আস্থার ঘাটতি হবে এটিই স্বাভাবিক। কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরপর তিন গভর্নর ও সব পরিচালকের তথ্য চাওয়া হলে সেটি নিয়েও বিদেশীদের কাছে খারাপ বার্তা যায়।’ ২০০৯ সাল-পরবর্তী দেড় দশকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষমতাচ্যুত) ছাড়া আর কেউ স্বাধীন ছিলেন না বলেও মন্তব্য করেন আরিফ হোসেন খান।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘খুলনার আইনশৃঙ্খলা: কথার আগে চলছে গুলি’। খবরে বলা হয়, নিজেদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল খুলনার রূপসা উপজেলার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সড়কের বাসিন্দা দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। হঠাৎ মোটর সাইকেলযোগে এসে হেলমেট পরা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তার বাম পায়ে বিদ্ধ হয়ে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ওই স্কুলছাত্রী খুলনা মহানগর পুলিশের তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর বোন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যার এ ঘটনার এক দিন আগে নগরের লবণচরা থানার আশিবিঘা বালুর মাঠে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তাঁর ডান ঊরুতে গুলি লাগে। এরও আগে গত ২৯ জুন রাতে নগরের গল্লামারী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন রফিকুল ইসলাম (৩৫)। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে খুলনায় ঘটেছে তিনটি গুলির ঘটনা।

পুলিশ প্রশাসন ও স্থায়ীদের ভাষ্য, খুলনায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস। প্রকাশ্যে গুলি, কুপিয়ে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার এবং পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনা ঘটছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খুলনা মহানগরে ১৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের পর ঘটেছে ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, যেগুলোতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, নগরীতে অন্তত কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্যরা এখন এতটাই বেপরোয়া যে জনবহুল এলাকাতেও অস্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধা করছে না। পুলিশের দাবি, অধিকাংশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি শনাক্ত করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে সন্ত্রাসীরা আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না।

খুলনায় কেন একের পর এক খুনোখুনি হচ্ছে এবং কেন তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না—জানতে চাইলে খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান গত শুক্রবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মহানগরে প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। পাশেই সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরা, যশোর, বাগেরহাট জেলা। অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত হয়েছে, অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘ফের রোহিঙ্গা ঢলের শঙ্কা’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আবারও রোহিঙ্গা ঢলের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে মংডু শহরে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ করে বিমান হামলা চালিয়েছে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। এসব হামলায় আরাকান আর্মির স্থাপনার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ঘড়বাড়িও ধ্বংস হয়েছে। ফলে রাখাইনের আতঙ্কিত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার খোঁজে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে নতুন রোহিঙ্গা ঢল ঠেকাতে সীমান্তে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্য পুনরুদ্ধারে বুধ ও বৃহস্পতিবার থেমে থেমে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ করে বিমান হামলা চালায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। হামলার তীব্রতায় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের বাড়িঘরসহ বিভিন্ন গ্রাম ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে। তবে শুক্রবার মংডু শহরের ভিতরে সংঘর্ষ ঘটলেও এপারে তেমন কোনো বিকট শব্দ শোনা যায়নি। এসব হামলায় আরাকান আর্মির স্থাপনার পাশাপাশি রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা সেখানে নিরাপদবোধ না করলে বাংলাদেশে নতুন করে অনুপ্রবেশের শঙ্কা রয়েছে। এর আগে গত বছর সংঘাতের কারণে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা দেশে অনুপ্রবেশ করেছিল।


উখিয়ার শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের জানান, মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় অসংখ্য ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। একই সময়ে স্থলপথে আরাকান আর্মির সঙ্গে আরও তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর তুমুল সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বহুমুখী এ সংঘর্ষের কারণে রাখাইনের সার্বিক পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হলে এই বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ কোনো উপায় না পেয়ে আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আলীখালী ক্যাম্পের শরণার্থী ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘মংডুতে থাকা এক আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনেছি, সেখানকার পরিস্থিতি এখন খুবই উত্তপ্ত। সহজে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। অনেক রোহিঙ্গা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। এক বছর আগে সংঘাতের সময় ধাপে ধাপে উখিয়া ও টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছিল। আমরা চাই রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গা ভাইয়েরা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন।’ রাখাইনে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের খুব কাছে হওয়ায় এখান থেকে আরাকান আর্মির পোস্টও দেখা যায়। বুধবার দ্বীপের ওপারে রাখাইনে বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়িঘর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছিল। এ সময় সবার মাঝেই ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’
উখিয়ার পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘রাখাইনে সংঘাত শুরু হলেই এপারে আতঙ্ক দেখা দেয়। সীমান্তবর্তী গ্রামের বাড়িঘরে গোলাবারুদ এসে পড়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা লেগেই থাকে। গত বছর আরাকান আর্মি-জান্তা সরকারের সংঘাত শুরুর পর লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। আবার সংঘাত শুরু হলে রাখাইনে থাকা অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদেরও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।’ তবে নতুন রোহিঙ্গা ঢল ঢেকাতে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ লক্ষ্যে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল, নাফ নদে নৌটহল, সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’

BAD MOUTH

২ ঘন্টা আগে

জুলাই হত্যা মামলায় হ-য-ব-র-ল
Definitely we know the work of whom !

মন্তব্য করুন