প্রযুক্তির কাছেই হার মানতে হলো ক্রোয়েশিয়াকে

প্রযুক্তির কাছেই হার মানতে হলো ক্রোয়েশিয়াকে

ফন্ট সাইজ:

টরন্টো স্টেডিয়ামে মঞ্চস্থ হলো বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় এক ম্যাচ। শেষ মুহূর্তের আধুনিক মাইক্রোচিপ প্রযুক্তি আর চুলের এক সূক্ষ্মতম স্পর্শের সিদ্ধান্তে ভেঙে গেল ক্রোয়েশিয়ার হৃদয়, টিকে রইলো পর্তুগালের স্বপ্ন। ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকা ক্রোয়াটরা ম্যাচের ইনজুরি টাইমের ত্রয়োদশ মিনিটে (৯০+১৩) ইয়োস্কা গাভার্দিওলের গোলে উল্লাসে মেতে ওঠে। কিন্তু নাটকের তখনো বাকি।

প্রিমিয়ার লীগের ভিডিও রেফারি জ্যারেড জিলেট ভিএআর মনিটরে পরীক্ষা করতে বসেন যে, বিল্ড-আপের সময় ক্রোয়েশিয়ার ইগর মাতানোভিচের মাথায় বল স্পর্শ করেছিল কি না। রেফারি এসপেন এসকাস দীর্ঘক্ষণ রিপ্লে দেখার পর ক্রিকেটীয় স্নিকোমিটারের মতো মাইক্রোচিপ প্রযুক্তি ‘সাউন্ডস্ক্যান’-এর সূক্ষ্ম স্পাইক বা কম্পন দেখে গোলটি বাতিল করেন। এর পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

বিবিসি ধারাভাষ্যকার স্টিভ উইলসন একে ‘ইতিহাসের অন্যতম সেরা ভিএআর সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দেন। দ্য অ্যাথলেটিকের সাংবাদিক জ্যাক ল্যাং এবং ব্রাজিলের গ্লোবো মিডিয়ার রেফারিং বিশ্লেষক পাওলো সিজার অলিভিয়েরা পুরো ঘটনাটির নিখুঁত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তাদের মতে, ক্রস করার মুহূর্তে পাসালিচ অনসাইড থাকলেও, মাতানোভিচের লাফিয়ে উঠে মাথা ছোঁয়ানোর কারণে পাসালিচ অফসাইড হয়ে যান। অলিভিয়েরা বলেন, ‘খালি চোখে মাতানোভিচের সেই আলতো ছোঁয়া ধরা পড়া অসম্ভব ছিল। তবে আধুনিক প্রযুক্তি এই সূক্ষ্ম মুহূর্তগুলো ধরার জন্যই তৈরি।’

স্বয়ং মাতানোভিচও ম্যাচ শেষে স্বীকার করে বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার মনে হয় চুলে বলের খুব হালকা স্পর্শ লেগেছে। আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম না, তবে রেফারি জানালেন বলের ভেতর চিপ বসানো আছে এবং তাতে স্পর্শ ধরা পড়েছে।’

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ একে শতভাগ যৌক্তিক দাবি করে বলেন, ‘এখানে ব্যক্তিগত মতামতের জায়গা নেই। বলের ভেতরের চিপ পরিষ্কার দেখিয়েছে যে মাতানোভিচের স্পর্শ লেগেছিল এবং পাসালিচ অফসাইড ছিলেন।’

তবে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার ম্যাট আপসন দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘রিপ্লেতে বলের ঘূর্ণন বা দিক পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ আমি দেখিনি। আমি নিশ্চিত নই মাতানোভিচ বলটি আদৌ স্পর্শ করেছিলেন কি না।’

সাবেক রেফারি ড্যারেন ক্যান অবশ্য জানান, ‘স্নিকো শতভাগ প্রমাণ করেছে বল মাথায় লেগেছিল, তাই অফসাইডের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ সঠিক।’

Kajol Mia

২ ঘন্টা আগে

সত্যকে সত্য বলতেই হবে

মন্তব্য করুন