দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সিসার চালানসহ মাদক কারবারি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুই সহোদর ইরান থেকে সিসা বিক্রির কার্যক্রম শিখে এসে বাংলাদেশে অনলাইনে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গ্রেপ্তারকৃতর দুই সহোদ হলেন- আহমেদ শরীফি, মেহদাদ শরীফি ও অপর ব্যক্তি হলেন- মাকসুদ আলম। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা, ৪০ কেজি সিসা সেবনের কয়লা, ৫টি মোবাইল ফোন ও বিপুল পরিমাণ সিসা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকালে সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন।
তিনি বলেন, রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় পরিচালিত এক সমন্বিত বিশেষ অভিযানে দেশের ইতিহাসে একক অভিযানে সর্বাধিক পরিমাণ সিসা উদ্ধারসহ একটি আন্তঃজেলা অনলাইন মাদক চক্রের মূলহোতা দুই সহোদরসহ মোট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের কাছে গোপন সংবাদ ছিল যে, আহমেদ শরীফি (৩৪) ও মেহদাদ শরীফি (৩৪) নামে দুই সহোদরের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনার মাধ্যমে ঢাকাসহ সারাদেশে অনলাইনে অবৈধ সিসা ও সিসা সেবনের উপকরণ বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছে। প্রাপ্ত সংবাদের সূত্র ধরে আরও জানা যায়, উক্ত পেজের মাধ্যমে অর্ডারকৃত সিসার দু'টি চালান দেশীয় কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদে নিকট প্রেরণ করা হবে।
মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, তথ্যের সত্যতা যাচাই করে ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো, মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ রেইডিং টিম ২ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা এলাকায় প্রথম অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে উক্ত ফেসবুক পেজের নামে প্রেরিত ১ কেজি শিশাসহ একটি পার্সেল জব্দ করা হয়। অতঃপর একই দিন রমনা থানাধীন মালিবাগ থেকে একই পেজের নামে প্রেরিত আরও ১ কেজি সিসাসহ দ্বিতীয় পার্সেলটি জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত পার্সেল দু'টির প্রেরক-ঠিকানা যাচাই করে অভিযানিক দল একই দিনে গুলশান থানাধীন কালাচাঁদপুরে একটি ফ্ল্যাটে হানা দেয়, যা মূল অভিযুক্ত দুই সহোদর আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফির ভাড়া বাসা ছিল। এসময় উভয়কে হাতেনাতে আটক করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফ্ল্যাট তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা এবং ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। আটক দুই সহোদরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তাদের সরবরাহকৃত সিসার একটি বড় অংশ আসত মাকসুদ আলম (৪০) নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে, যিনি ভাটারা থানাধীন নূরেরচালা এলাকায় বসবাস করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে ঐদিন রাতে অভিযানিক দলটি নূরেরচালাস্থ তার ভাড়া ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে আরও ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। চার স্থানে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা, ৪০ কেজি সিসা সেবনের কয়লা এবং মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ডিএনসি জানিয়েছে, এটি দেশে এ পর্যন্ত এক অভিযানে জব্দকৃত সর্ববৃহৎ সিসার চালান, যা অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত দুই সহোদর আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি দীর্ঘ সময় ইরানে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে তারা শিশা ব্যবসার কার্যক্রম, বাজারব্যবস্থা এবং সরবরাহ পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
