বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ বাংলাদেশ তৈরি করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক চেতনাবোধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে, ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও লগো উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপশক্তি নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালেও সবাই মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের আবহমান কালের মূল্যবোধ। বর্তমান সরকারও এমন এক রাষ্ট্র এবং সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে নিরাপদে বসবাস করবে। শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, কোনো প্রাণীও মানুষের হিংস্রতার শিকার হবে না, বর্তমান সরকার সেটিও নিশ্চিত করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্?যাপনের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে। নজরুল বর্ষের সার্থকতা কামনা করছি।
তিনি বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। শুধু অতীত ইতিহাস নয়, আজকের প্রজন্মের জন্য এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও নজরুল আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক।
তারেক রহমান বলেন, নজরুল বর্ষ’ উদ্যাপনের লক্ষ্যে আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেক সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। বেশ কয়েকজন নজরুল গবেষক এবং নজরুল সংগীত শিল্পীগণও অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। আপনাদেরকে অভিনন্দন। তবে একটি আধুনিক আবদ্ধ ঘরে বসে আজ যেভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করছি, স্মারক ডাকটিকিট এবং লোগো উন্মোচন করছি, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিকে আমি একটু ভিন্নভাবেই আশা করেছিলাম।
তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে- ‘সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’। এর পরিবর্তে আমন্ত্রণপত্রে যদি লেখা থাকতো ‘সকল বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নজরুল গবেষক, নজরুল শিল্পী, নজরুলপ্রেমীরা ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’ সেটি বরং বেশি যৌক্তিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো বলে আমার বিশ্বাস।
নিজের ভাবনা ব্যাখ্যা করে সরকারপ্রধান বলেন, আমার এই উপলব্ধির কারণ হলো, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কিংবা ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে যদি বলা হয় ‘নজরুল গবেষক, নজরুল শিল্পী, নজরুলপ্রেমী মানুষেরা ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’ এটি যেমন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না। ঠিক একইভাবে-একই কারণে নজরুল বর্ষ উদ্যাপনে ‘সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’ কথাটিও উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেননি। তবে তার হৃদয় জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। কিশোরবেলায় ১৯১৪ সালে তিনি প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। কবির স্মৃতি বিজড়িত সেই ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকার ২০২৬ সালের ২৫শে মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫শে মে-এ বর্ষটিকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে।
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, কবি নজরুলের নাতনি খিলখিল কাজী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর লেখা ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। তিন খণ্ডের গ্রন্থটির লেখক হচ্ছেন কালাম ফয়েজী। গ্রন্থটিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্ব, উন্নয়ন দর্শন এবং জাতীয় জীবনে তার বহুমাত্রিক অবদান তুলে ধরা হয়েছে। মোড়ক উন্মোচনের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
