প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের ৪৮ দিনের মাথায় শেষের পথে খোর্দ্দ শৈলখালী খাল পুনর্খনন

ফন্ট সাইজ:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার কৃষি ও জনজীবনের অন্যতম প্রাণরেখা ঐতিহাসিক খোর্দ্দ-শৈলখালী খাল পুনর্খননের কাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মাত্র ৪৮ দিনের মাথায় শেষের পথে। দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও বিভিন্ন স্থানে দখলের কবলে পড়ে সংকুচিত হয়ে যাওয়া খালটি আবার ফিরে পাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ। ইতিমধ্যে বিস্তীর্ণ অংশে পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। দুই পাড়ের হাজারো মানুষ নতুন করে সেচ সুবিধা, মাছ চাষ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার খোর্দ্দ থেকে কচুয়া উপজেলার শৈলখালী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির অধিকাংশ অংশে পুনর্খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যেসব স্থানে একসময় মাটি ও দখলের কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেখানে এখন থৈ থৈ পানি। জানা যায়, ডাকাতিয়া নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শৈলখালী খালে মিলিত হয়েছে খোর্দ্দ খাল। টামটা উত্তর ও টামটা দক্ষিণ ইউপি’র বুক চিরে প্রবাহিত এ খালটি দু’টি সংযোগ খাল (২ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ও ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার) এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল খালের মাধ্যমে প্রায় ২৪১ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা দিয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালটির উপর সরাসরি নির্ভরশীল প্রায় ২ হাজার ৭৮৮টি কৃষক পরিবার। টামটা উত্তর ও টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯টি মৌজা ও ১৪টি গ্রামের কৃষি উৎপাদনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিএডিসি’র পাম্পসহ বিভিন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের জন্য আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহরাস্তিতে এসে খোর্দ্দ খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দেয়। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মে শনিবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় “খোর্দ্দ হতে শৈলখালী পর্যন্ত” খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়েছে। এখন খননকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাল পুনর্খনন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন এবং বন্যা-জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, এই খাল শুধু একটি জলপথ নয়, এটি এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির জীবনরেখা। খননকাজ সম্পন্ন হলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি দৃশ্যমান দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসরণ করে খাল পুনর্খননের কাজ এগিয়ে নেয়া হয়েছে। টামটা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মানিক এবং টামটা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক দর্জি বলেন, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা, জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয় এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এত বড় কর্মযজ্ঞ সফল বাস্তবায়নের পথে। খালটি পুরোপুরি সচল হলে কৃষি, মৎস্য এবং জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন