মিয়ামির নীল-সাদা ঢেউয়ে সুযোগসন্ধানী হাঙ্গর

কেপ ভার্দের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা

মিয়ামির নীল-সাদা ঢেউয়ে সুযোগসন্ধানী হাঙ্গর

ফন্ট সাইজ:

ম্যাচ শুরুর অনেক আগেই মিয়ামিতে ভিড় জমিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক। অনেকের হাতেই নেই টিকিট। তাতে কী! প্রিয় দল আর লিওনেল মেসির টানে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তারা হাজির হয়েছেন শুধু এক ঝলক দেখার আশায়। চেনা শহরে মেসির রাজকীয় প্রত্যাবর্তন, তার সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউটের বাঁচা-মরার লড়াইÑ সব মিলিয়ে মিয়ামি যেন এক টুকরো বুয়েন্স আয়ার্স। মিয়ামি বিচে আছড়ে পড়ছে নীল-সাদা ঢেউ। তবে সেই ঢেউয়ের নিচেই ওত পেতে আছে ‘কেপ ভার্দে’ নামের এক হাঙ্গর। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই সবাইকে চমকে দেয়া আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি শিকার করতে চায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তর্কসাপেক্ষে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আন্ডারডগও তারাই। গ্রুপ পর্বে নবাগত এই দলটিকে হারাতে পারেনি স্পেন, এমনকি দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েও। তাই আগামীকাল ভোর ৪টায় হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নামার আগে আর্জেন্টিনাকে সতর্কই থাকতে হচ্ছে। ম্যাচটি যে মোটেও সহজ হবে না, সেটি আগেভাগে স্বীকার করে নিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। আর কেপ ভার্দে ডিফেন্ডার পিকো লোপেজ বলেছেন, ‘ইতিহাস গড়া নয় এবার ইতিহাস লিখতে চাই আমরা।’

২০২৬ বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছে ফুটবল পরাশক্তিদের বধ্যভূমি। গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ের পর শেষ বত্রিশ থেকে বিদায় নেয় জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। ইংল্যান্ড, ব্রাজিলকেও জিততে হয়েছে ঘাম ঝরিয়ে। আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি এই বাস্তবতা জানেন। জানেন বলেই, টানা তিন জয়ের পরও সতর্ক তিনি। বলেন, ‘ওরা কঠিন প্রতিপক্ষ নয়, এমনটা বললে মিথ্যা বলা হবে। অনেকের কাছে হয়তো তা মনে নাও হতে পারে। কিন্তু আমি নিশ্চিত, ওরা খুব ভালো দল এবং আমাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করবে।’
কেপ ভার্দের বড় শক্তি তাদের দলীয় ঐক্য। গোলরক্ষক ভোজিনহার নেতৃত্বে দুর্ভেদ্য এক দেয়াল গড়ে তোলেছে তারা। ৪-১-৪-১ ছকে রক্ষণভাগকে যতটা সম্ভব নিচে নামিয়ে ‘লো-ব্লক’ তৈরি করবে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনাকে বলের দখল ছেড়ে দিয়ে আক্রমণে টেনে আনার চেষ্টা করবে। আর সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে আঘাত হানতে চাইবে। গ্রুপ পর্বে এই কৌশলেই সফল হয়েছিল দলটি।
কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কৌশলটা কাজে নাও লাগতে পারে। কেপ ভার্দের ‘লো ব্লক’ ভাঙতে আলবিসেলেস্তেদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র লিওনেল মেসি। মাঠে কম দৌঁড়ে সবচেয়ে বেশি গোল আদায় করে নেন তিনি। প্রতিপক্ষের কড়া নজরদারিতেও তাকে আটকানো যাচ্ছে না। ডি-বক্সের ভেতর সুযোগ না পেলে বাইরে থেকেই গোলা ছুড়ছেন। তিন ম্যাচে ৬ গোল করা মেসিই কেপ ভার্দে আর আর্জেন্টিনার মাঝে বড় পার্থক্য। তবে মেসিকে ‘ম্যান মার্কিং’ করে আটকানোর পরিকল্পনা নেই কেপ ভার্দের। সহকারী কোচ হুমবার্তো বেতেনকুর্ত বলেন, ‘মেসিকে আটাকানোর দায়িত্ব একজনের নয়। আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলবো ও দলগতভাবে তাকে আটকানোর চেষ্টা করবো। পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার হিসাব নিয়েও ভাবছি না। জিততে পারবো, এই বিশ্বাস আমরা করি।’ আর কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার পিকো লোপেজের কাছে ‘সর্বকালের সেরা’ তারকা মেসির বিপক্ষে খেলাটা স্বপ্নের মতো। তিনি বলেন, ‘মেসি ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে নামতে পারবোÑ এটা যেন অবাস্তব এক অনুভূতি। ছোটবেলায় যাদের টেলিভিশনে দেখেছি, আজ তাদের বিপক্ষেই খেলবো!’ এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা দলের পারফরম্যান্স ছিল অনেকটা মেসি নির্ভর। তবে আক্রমণভাগের অন্য খেলোয়াড়রাও ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছেন। শেষ ম্যাচে ফ্রি কিক থেকে জিওভানি লো সেলসো গোল করেন। পেনাল্টি কিকে আত্মবিশ্বাস ঝালিয়ে নিয়েছেন লাওতারো মার্টিনেজ। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তার শুরুর একদশে থাকা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম মুন্দো আলবিসেলেস্তে জানিয়েছে, একাদশে থাকবেন রোমেরো। তার সঙ্গে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, মলিনা ও মেদিনা। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, ডি পলের সঙ্গে দেখা যেতে পারে থিয়াগো আলমাদাকে। লাওতারোকে নিয়ে আক্রমণভাগে যথারীতি মেসি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন