দুই যুগ পর নকআউটে জয় যুক্তরাষ্ট্রের

বালোগানের লালকার্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ কোচ

দুই যুগ পর নকআউটে জয় যুক্তরাষ্ট্রের

ফন্ট সাইজ:

বসনিয়া ও হারর্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালের পর নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের এটি প্রথম জয়। রাউন্ড অব সিক্সটিনে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবে তারা। তবে সেই ম্যাচে খেলতে পারবেন না লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া ফ্লোরিয়ান বালোগান। সেটি নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন দেশটির কোচ সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় ম্যাচের শুরু থেকে আধিপত্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বালোগান। লাল কার্ড দেখার আগপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৫টি শট নেয়, যার ৪টি ছিল তার। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে সবচেয়ে বেশি ৭ বার বল স্পর্শও করেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সেই আধিপত্যেরই পুরস্কার পায় যুক্তরাষ্ট্র। ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গায়ে লেগে বলের দিক বদলে যায়। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক গলে বল জালে পাঠান বালোগান। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় গোল। এর আগে জোড়া গোল করেন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর সুযোগ পায় বসনিয়া। ৬১ মিনিটে মুহারেমোভিচের পায়ে কড়া ট্যাকল করেন বালোগান। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআরে ঘটনাটি দেখে সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন যুক্তরাষ্ট্রের এই স্ট্রাইকার। শেষ প্রায় আধঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেললেও যুক্তরাষ্ট্রকে তেমন চাপে ফেলতে পারেনি বসনিয়া; বরং ৮২ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মালিক টিলম্যান। সেই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। ম্যাচের পর রেফারির লাল কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ঝেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হেড কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো এবং সাবেক তারকা অ্যালেক্সি লালাস। প্রশ্ন উঠেছে লিওনেল মেসির সেই ট্যাকল নিয়েও। মার্কিন কোচ পচেত্তিনো বলেন, ‘আমার চোখে এটি কখনোই লাল কার্ড ছিল না। প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ব্যালোগানের ছিল না। ফুটবলে এটি খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা।’ দলের সেরা স্ট্রাইকারকে হারিয়ে হতাশ পচেত্তিনো।

তিনি বলেন, ‘ভীষণ হতাশ। সে ইচ্ছাকৃত ফাউল করেনি। এটাই ফুটবল। আমরা এখন এই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবো না, তবে আশা করি দল পরবর্তী রাউন্ডে যাবে যেন সে আবার খেলতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডিফেন্ডার এবং ফুটবল বিশ্লেষক অ্যালেক্সি লালাস সরাসরি ফিফার ভিএআর প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে লিওনেল মেসির করা একটি প্রায় হুবহু ফাউলের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন লালাস। সেই ম্যাচে আলজেরিয়ান খেলোয়াড়কে একই কায়দায় ট্যাকেল করেও কোনো কার্ড ছাড়াই পার পেয়ে গিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। নিজের ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ পডকাস্টে লালাস বলেন, ‘এটি মোটেও লাল কার্ড পাওয়ার মতো ফাউল ছিল না। ভিডিওতে দেখতে খারাপ লাগলেও রেফারিদের মাঠের পরিস্থিতি বুঝতে হবে। এটা অত্যন্ত বাজে একটা সিদ্ধান্ত। সোজা কথায় বলতে গেলে, ব্যালোগানের নাম যদি আজ ‘মেসি’ হতো, তবে সে ঠিকই মাঠে টিকে থাকতো এবং সোমবার সিয়াটলের ম্যাচে খেলতে পারতো।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন