ঐতিহাসিক লড়াইয়ে নামছে মোহাম্মদ সালাহর মিশর। প্রথমবার বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচ খেলবে ফারাওরা। ডালাসে আজ রাত ১২টায় শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে মিশরের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের আগে বড় আলোচনার বিষয় সালাহর চোট। সুখবর হলো, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি। যদিও একাদশে থাকবেন কিনা সেটা চূড়ান্ত হয়নি। তবুও সালাহকে কীভাবে থামানো যায় সেই ছক কষে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডাররা।
উইংব্যাক জর্ডি বস বলেন, ‘সালাহ উঁচুমানের খেলোয়াড়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলছেন। তাকে কীভাবে থামানো যায়, সেটা নিয়ে অবশ্যই আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। মাঠের বাইরে তার প্রতি আমাদের যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু মাঠে কোনো শ্রদ্ধা নেই। আমার মনে হয়, আমাদের দলের সবাই এই মানসিকতা নিয়েই খেলতে নামবে। আমিও ঠিক এভাবেই খেলতে চাই।’ ইরানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে মিসর। তাতে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত হয় দলটির। তবে ম্যাচে সালাহর ইনজুরি দুশ্চিন্তা বাড়ায় সমর্থকদের। সৃষ্টিকর্তার কাছে ভক্তদের আকুতি সালাহ যেন খেলতে পারেন। আশা হয়তো পূরণ হতে যাচ্ছে। সালাহকে নিয়ে সুখবর জানিয়েছে ইজিপ্ট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। গত মঙ্গলবার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সালাহর অনুশীলনের ছবি পোস্ট করে তারা ক্যাপশন লিখে, ‘কিং ইজ ব্যাক।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত সালাহ যদি খেলতে না পারেন? তবে মিসরের আক্রমণভাগের দায়িত্ব নিতে হবে ওমর মারমুশকে। ইরানের বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন মারমুশ। সংবাদসূত্রে জানা গেছে, শুরুর একাদশে থাকতে না পেরে হতাশ ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা। সকারুদের বিপক্ষে হারানো জায়গা ফিরে পেতে মরিয়া তিনি। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও প্রস্তুত। ডি গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউটে আসা দলটি আত্মবিশ্বাসে টুইটুম্বুর। সকারু কোচ টনি পোপোভিচ মিসরের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে টার্গেট করবেন। সালাহ ছাড়াও ফারাওদের বেশ ক’জন ডিফেন্ডার ইনজুরিতে ভুগছেন। সেন্টারব্যাক মোহাম্মদ আব্দুলমোনেম ইরানের বিপক্ষে মাত্র ১৪ মিনিট খেলতে পেরেছিলেন। তার খেলা অনিশ্চিত। লেফটব্যাক আহমেদ ফাতুহ সম্ভবত আজকের ম্যাচটি পুরোপুরিই মিস করবেন। এছাড়া হামদি ফাতিহ ও হোসাম আব্দেল মাজিদ ফিটনেস ফিরে পেতে লড়ছেন। অস্ট্রেলিয়ার মতো শারীরিক শক্তি নির্ভর দলের বিপক্ষে রক্ষণের লাইনআপ সাজাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মিসর কোচকে। অস্ট্রেলিয়া কখনো বিশ্বকাপে নকআউট ম্যাচ জিততে পারেনি। সেই আক্ষেপ এবার ঘুচাতে মরিয়া জর্ডি বস। তিনি বলেন, ‘গ্রুপে কোনো ম্যাচ হেরে গেলে বা না জিতলে পরের সপ্তাহে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু নকআউটে দ্বিতীয় সুযোগ নেই। এই ম্যাচে এমন মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে যেন আগামীকাল বলতে কিছু নেই।’
