পেনসিলভানিয়ার ছোট্ট এক শহর হার্শি। চকলেটের নগরী হিসেবে পরিচিত। শহরের রাস্তার বাতিগুলো পর্যন্ত গড়া হয়েছে হার্শি কিসের আদলে। আজ সেই শহরের নাম উচ্চারিত হচ্ছে নতুনভাবে। এই শহরকে চেনাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক। যাকে ঘিরে এবারের বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন দেখছে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রামে হার্শি কোম্পানি ‘পুলিসিক’স মিল্ক চকোলেট বার’ নামে কিছু স্পেশাল সংস্করণের প্যাক তৈরি করেছে। সেই প্যাকের গায়ে রয়েছে পুলিসিকের স্বাক্ষর। চকলেটের প্রচারেও অংশ নেন তিনি। এক্স হ্যান্ডলে লিখেন, ‘হার্শিই আমার কাছে সবকিছু। এখানেই আমার পরিবারের বসবাস, বেড়ে উঠা ও ফুটবলের হাতেখড়ি।’ ১৯০৩ সালে ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী মিল্টন এস. হার্শি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। কারখানার শ্রমিকদের জন্য বাড়ি, হোটেল আর থিমপার্ক তৈরি করেন। সেই থিম পার্কেই ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যেতেন পুলিসিক। ১২০ বছরেরও বেশি সময় পার হলেও হার্শি কোম্পানি এখনো চকলেটটাউন হিসেবে বিখ্যাত। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রাণভোমরা।
১৯৯৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হার্শিতে জন্ম পুলিসিকের। বাবা মার্ক ও মা কেলি পুলিসিকের ঘরে। দুজনেই ছিলেন জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন ফুটবলার। বাবা পরে হ্যারিসবার্গের হয়ে পেশাদার ইনডোর সকার খেলেছেন। মায়ের ফুলব্রাইট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের সুবাদে এক বছর ইংল্যান্ডে ছিল পরিবারটি। যেখানে সাত বছর বয়সী পুলিসিক খেলেছিলেন ব্র্যাকলি টাউন যুব দলে। দশ বছর বয়সে হার্শিতে ফিরে পেনসিলভানিয়া ক্লাসিকসে যোগ দেন পুলিসিক। ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির মুরগি ও দুগ্ধ খামারে ঘেরা এ ক্লাবে আট বছর খেলেছেন তিনি। ২০২১ সালে নিজের অর্থায়নে ও ডিজাইনে সহায়তায় গড়া নতুন মাঠের উদ্বোধন করতে ফিরে আসেন পুলিসিক। সেই মাঠের নামই এখন পুলিসিক স্টম্পিং গ্রাউন্ডস। মাঠের পাশে টাঙানো বিশাল কোলাজে তার ছোটবেলা থেকে বিশ্বকাপ তারকা হয়ে ওঠার যাত্রা উজ্জ্বল হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র যুব দলে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন পুলিসিক। অনূর্ধ-১৫ দলের হয়ে ১০ ম্যাচে করেন ২ গোল। ২০১৩ সালে অনূর্ধŸ-১৭ দলের হয়ে ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে গোল করেছিলেন। দুই বছর পর এ দলের অধিনায়ক হন পুলিসিক। তিন ম্যাচে ১ গোল ও এক অ্যাসিস্ট করেন পুলিসিক। ২০১৬ সালে ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে তার অভিষেক হয়। দুই বছর পর যুক্তরাষ্ট্র দলের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দ্রুততর ১০ আন্তর্জাতিক গোলের রেকর্ড গড়েন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপে পুলিসিকের অভিষেক হয়। নিজের প্রথম বিশ্ব আসরে চমক দেখান তিনি। ওয়েলস এর বিপক্ষে এক অ্যাসিস্টের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হন। আসরে ৪ ম্যাচে ২ গোল ও এক অ্যাসিস্ট করেন পুলিসিক। এবারের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে একটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। চোটের কারণে গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচে না মাঠে নামতে পারেননি। তবে রাউন্ড অব থার্টি পর্যন্ত তিন ম্যাচে ১৬৬ মিনিট খেলেছেন পুলিসিক।
