আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে কোন দলকে সমর্থন করবেন আদ্রিয়ানো তোমাস কুস্তোদিও মেন্দেস? দ্বিধায় পড়ে গিয়েছেন ৬৪ বছর বয়সী এ ব্যক্তি। জন্ম কেপ ভার্দেতে থাকেন আর্জেন্টিনায়। আর পরিচয় হিসেবে আর্জেন্টাইন বলতেই তার স্বাচ্ছন্দ্য। প্লাটায় বসবাস করা এ সাবেক ফুটবলার এখন আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের পরিচিত মুখ। আর্জেন্টিনার ক্রীড়া পত্রিকা ওলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের এই অবস্থা নিয়ে মেন্দেস বলেন, ‘আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের কারণে মনে হয় এই মুহূর্তে আমিই দেশের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি।’
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক জায়গা করে নেয়া কুস্তোদিও মেন্দেসকে আলোচনায় এনেছে। ১২ বছর বয়সে বাবা-মা হারিয়ে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমানো এ সাবেক ফুটবলার জানান, তার মন এখন দ্বিধাগ্রস্ত। ওলেকে তিনি বলেন, ‘আমার মনটা দ্বিধায় আছে, ভাই। আমি জানি আমি কোথা থেকে এসেছি। কিন্তু আমি আমার রক্ত বা শিকড়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না। আমি কোনো পক্ষের প্রতি অন্ধ সমর্থন ছাড়াই খেলাটা দেখবো’।
জীবনে বহু গোল উদযাপন করা এই মানুষটি এবার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওলেকে তিনি জানান, ‘এটাই হবে প্রথম ম্যাচ যেখানে আমি কোনো গোল উদযাপন করবো না। আমার জীবনে এই প্রথমবার এমন হবে যে, কোনো গোল হলে আমি সেটা চিৎকার করে বলবো না। কেপ ভার্দে সবচেয়ে বড় যে উপহারটি চেয়েছিল, তা হলো আর্জেন্টিনার মতো একটি দল ও মেসির বিপক্ষে খেলা। এটাই কেপ ভার্দের জন্য একটি বিজয় এবং এটি আমাকে আনন্দিত করে।’
১৯৮১ সালে এস্তুদিয়ান্তেস দে লা প্লাতায় অভিষেক হওয়া কুস্তোদিও মেন্দেস কিংবদন্তি কোচ কার্লোস বিলার্দোর অধীনে খেলেছেন। সেই স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘তার কাছ থেকেই আমি শিখেছি মাঠে কীভাবে নড়াচড়া করতে হয়, কীভাবে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিতে হয়। এই সবকিছুই আমাকে লম্বা সময় খেলতে সাহায্য করেছে।’ আশির দশকে আর্জেন্টিনা দলে একমাত্র আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন কুস্তোদিও মেন্দেস। এ কারণে বৈষ্যমের শিকারও হতে হয়েছে। সেই কষ্ট লুকাননি তিনি। অকপটে স্বীকার করেন। মেন্দেস বলেন, ‘মাঝে মাঝে বৈষম্য সইতে হয়েছে। যখন পরিস্থিতি বুঝতে শুরু করি তখন এসব আর মনকে বিরক্ত করেনি।’ কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসের এই অর্জনকে দেশটির স্বাধীনতা লাভের পরের সবচেয়ে বড় ঘটনা বলে মনে করেন তিনি। ওলেকে তিনি বলেন, ‘কেপ ভার্দের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভ। সেটাই প্রথম, তারপর বিশ্বকাপ। কেউই এটা আশা করেনি।’
