২০ দিনেও দেশে আসেনি প্রবাসীর লাশ দিশাহারা পরিবার

২০ দিনেও দেশে আসেনি প্রবাসীর লাশ দিশাহারা পরিবার

ফন্ট সাইজ:

সৌদি আরবে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নারানপুর এলাকার তৈয়ব আলী মোল্লা নামে এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, মৃত্যুর ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও তার লাশ পৌঁছেনি পরিবারের কাছে। যাবতীয় কাগজপত্র সৌদি অ্যাম্বাসিতে পাঠানো হলেও ১২ দিনেও খোঁজখবর নেই লাশের। দ্রুত লাশ ফিরে পাওয়ার দাবি স্ত্রী-স্বজনদের। একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুতে দিশাহারা পুরো পরিবার। তৈয়ব সৌদি আরবের তাম্মাম শহরের রিয়াদ হাসপাতালে কিডনি ও লিভারের রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ই জুন মারা যান। মৃত্যুর পর সৌদি আরবে বসবাসকারী তার নিকট আত্মীয় কেউ না থাকায় ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গ্রামে স্ত্রী-সন্তানেরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। তৈয়ব উপজেলা সদরের পূর্ব নারানপুর এলাকার মৃত আলিম মোল্লার ছেলে।

তৈয়বের স্ত্রী বিউটি বেগম মানবজমিনকে বলেন, অভাবের সংসারে ৩টি কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে রেখে ধারদেনা করে ৩ বছর ধরে প্রবাস জীবন পার করছিলেন তৈয়ব। সৌদি আরবের তাম্মাম শহরে কনস্ট্রাকশনের কাজ করতেন। হঠাৎ করে কিডনি ও লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হলে রিয়াদ হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা হচ্ছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ই জুন তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও স্বামীর লাশ দেশে আসেনি। এমন কথা বলতে বলতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন স্ত্রী। স্বামীকে একনজর দেখার জন্য প্রচণ্ড ব্যাকুল স্ত্রী-সন্তান ও তার পরিবারের সদস্যরা। তৈয়বের ভাই বাবুল মোল্লা বলেন, তৈয়বের ২য় কন্যা বিথি সুলতানার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কথা ছিল এবার ছুটিতে দেশে ফিরেই অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে কন্যাকে তুলে দেবেন তার জামাতার হাতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিলেন। অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুতে পুরো পরিবারই আজ দিশাহারা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হয়ে গেল। আমরা ১২ দিন আগে সৌদি অ্যাম্বাসিতে সকল কাগজপত্র পৌঁছেছি। তবে এখনো লাশ আমরা পায়নি। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি অতিদ্রুত লাশটি পরিবারের নিকট আনার ব্যবস্থা করা হোক। অন্তত শেষ দেখাটা যেন আমরা পরিবারের লোকজন দেখতে পারি। সরজমিন দেখা যায়, তৈয়বের লাশ শেষবারের মতো দেখার জন্য তার বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও তিন সন্তান অপেক্ষায় আছেন। তারা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। পরিবারের লোকজন অ্যাম্বাসিতে সকল বৈধ কাগজপত্র দিয়েছেন। আশা করি দ্রুত লাশ পৌঁছে যাবে পরিবারের কাছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন