সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে জেলার চৌহালী, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেইসব জায়গায় ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এতে নতুন করে আর ভাঙন বাড়বে না। গত এক সপ্তাহে ফসলি জমির পাশাপাশি অন্তত ১০০ ঘরবাড়ি, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে আরও হাজারো পরিবার। বৃহস্পতিবার সরজমিন ঘুরে এই ভয়াবহ চিত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। পাউবো সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে থেকে ভারতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই পানি যমুনা নদীতে আসায় এবার আগাম পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ভাঙনের শুরু হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে আছে চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ, টেকপাড়া ও ভূতের মোড়, সদরের কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণি, কাজিপুর উপজেলার ভেটুয়া ও চরগিরিশ এবং শাহজাদপুর উপজেলার সনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি, বারোপাখিয়া, গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও বৃ-হাতকোড়া গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব গ্রামে অন্তত শতাধিক বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে হাজারও মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়দের দাবি, গত এক সপ্তাহে অন্তত ১০০টি ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিম্ন্নমানের কাজ ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ জিওব্যাগ না ফেলায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শাহজাদপুর উপজেলার ধীতপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত রহিতন বেগম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আগেভাগে ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষতি এড়ানো যেত। এখনো ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহায়তা মেলেনি বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে বর্ষার শুরুতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদ, টেকপাড়া ও ভূতের মোড় এলাকার বাসিন্দারা। চৌহালীর চর সলিমাবাদ এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪০-৫০টি ঘরবাড়ি ও একটি পাকা মসজিদ চোখের সামনে বিলীন হয়ে গেছে। এবার বেশি ভাঙছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙবে পানি যখন কমতে শুরু করবে। জানি না তখন কী দেখতে হবে। আমরা স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে নদীপাড়ে মানববন্ধনও করেছিলাম। কিন্তু এখনও কোনো দৃশ্যমান কাজ দেখা যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অবশ্যই সহায়তা দেয়া হবে। তাছাড়া ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে বলে তিনি জানান। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বর্ষাকালে নদীর বিভিন্ন জায়গায় প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দেয়। আমরা ভাঙন রোধে বিভিন্ন স্থানে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভাঙন আরও বিস্তার লাভ না করে।
সিরাজগঞ্জে যমুনা গিলছে ঘরবাড়ি ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
৩ জুলাই (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
