সমাধানমুখী সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শীর্ষ গণমাধ্যম নীতিনির্ধারকরা

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধ

সমাধানমুখী সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শীর্ষ গণমাধ্যম নীতিনির্ধারকরা

ফন্ট সাইজ:

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট। তবে এ সমস্যার কার্যকর ও পরীক্ষিত সমাধান রয়েছে যা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অধিকাংশ মৃত্যুই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে এসব উদ্যোগকে টেকসই করতে প্রয়োজন নীতিগত ধারাবাহিকতা, সরকারি অঙ্গীকার এবং গণমাধ্যমের আরও সক্রিয় ভূমিকা। তাই শিশু সুরক্ষা, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের মতো জনস্বার্থের বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক, তথ্যনির্ভর ও সমাধানমুখী সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম নীতিনির্ধারকেরা।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধসহ শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের গণমাধ্যম নীতিনির্ধারক ও গেটকিপারদের সঙ্গে এক পরামর্শসভায় এসব মতামত উঠে আসে। আন্তর্জাতিক সংস্থা সিনারগোস-এর সহযোগিতায় সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এ সভার আয়োজন করে।
সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামানের সঞ্চালনায় পরামর্শসভায় বক্তব্য রাখেন সোহরাব হাসান, সাইদুজ্জামান রওশন, রিয়াজ আহমদ, শহিদুল আজম, সালমা ইয়াসমিন, লিটন হায়দার, এস এম আকাশ, কাজল ঘোষ, শাহনাজ শারমীন, পার্থ শংকর সাহাসহ অন্যরা। তাঁরা পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে কেবল দুর্ঘটনার সংবাদ হিসেবে প্রকাশ না করে সমস্যার কারণ, কার্যকর সমাধান, সফল উদ্যোগ এবং নীতিগত প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আরও বেশি অনুসন্ধানী ও সমাধানমুখী প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর জোর দেন। এ ধরনের সাংবাদিকতা জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মত দেন তাঁরা। পরামর্শসভায় আরো বক্তব্য রাখেন সিনারগোস-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর এশা হুসাইন ও কর্মকর্তা রিজওয়ানুল হক খান।

চর্চা ডট কমের সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, প্রকল্পভিত্তিক উন্নয়ন দিয়ে খুব বেশি দূর এগোনো যাবে না। এটিকে স্থানীয় সরকার, নাগরিক সমাজ, নারী, তরুণ এবং গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে স্থায়ী উদ্যোগে পরিণত করতে হবে। যেসব এলাকায় পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বেশি, সেখানে আরও বেশি কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। গণমাধ্যমকে সরকারকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে, যেন এ ধরনের কার্যকর উদ্যোগ কোনোভাবেই থেমে না যায়।
সিনারগোস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এশা হুসাইন বলেন, আগে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুকে অনেকেই ভাগ্যের বিষয় বলে মনে করতেন। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ছোট শিশুদের নিরাপদ তত্ত্বাবধান এবং বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অধিকাংশ মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। সেই গবেষণার ভিত্তিতেই সরকারের নেতৃত্বে কর্মসূচির সম্প্রসারণ শুরু হয়।

তিনি বলেন, এটি শুধু জীবন রক্ষার প্রকল্প নয়, এটি একটি জাতি গঠন প্রকল্প। এক থেকে পাঁচ বছর বয়সে শিশুর নিরাপত্তা, পুষ্টি, শেখা ও বিকাশ নিশ্চিত করা গেলে তার সুফল পুরো সমাজ পায়।

মীর মাসরুরুজ্জামান বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শিশুদের হাত ধরে। তাই শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করা কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়, বরং টেকসই রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত। কিন্তু এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়নে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।