ঢাকা-বেইজিং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেরই অংশ: চীনা রাষ্ট্রদূত

ঢাকা-বেইজিং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেরই অংশ: চীনা রাষ্ট্রদূত

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে দুই দেশের সামগ্রিক কৌশলগত সম্পর্কেরই একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফর ছিল ‘সম্পূর্ণ সফল’ এবং এ সফরের মাধ্যমে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছেছে।’’

বৃহস্পতিবার ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘এটি ছিল একটি মাইলফলক সফর। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার নতুন ভিত্তি তৈরি হয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।’

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা সর্বাত্মক। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সেই বিস্তৃত সম্পর্কেরই একটি অংশ।’ তবে সম্ভাব্য কোনো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ (স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ) চালুর সিদ্ধান্ত এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক ‘২+২’ সংলাপ চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করা।’’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিএমইসি) আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য একটি নতুন কৌশলগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ইয়াও ওয়েন জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হলেও তা এগোয়নি। এবার চীন বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে ভারতসহ অন্য যেকোনো দেশ এতে যোগ দিতে চাইলে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই প্রকল্পের সঙ্গে লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত।’ তিস্তা বাংলাদেশের প্রকল্প, এটি আপনাদেরই প্রকল্প উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চীন এ প্রকল্পে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ থেকে উন্নীত হয়ে ‘বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার’ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সর্বোচ্চ স্তর।

তবে তিনি বলেন, ‘‘প্রস্তাবিত ‘২+২’ সংলাপ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে অনুসন্ধান বা পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।’’

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), চুক্তি, যৌথ কর্মপরিকল্পনা ও একটি কৃষি বাণিজ্য প্রটোকল সই হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই) বাস্তবায়ন, মংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল, সবুজ উন্নয়নে বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা, চীনা ভাষা শিক্ষা, গণমাধ্যম সহযোগিতা, কাঁঠাল রপ্তানি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার দলিল।

এছাড়া দুই দেশ সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা প্রতিরোধ, নদী খনন, জলসম্পদ পরিকল্পনা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

হায়দার আলী

৫৪ মিনিট আগে

চীন বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে যাক সগৌরবে...

মন্তব্য করুন