জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর হয়েছে। আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বলেছিলাম—জুলাই গণহত্যার বিচার ও সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটা বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ করতে চাই। সেই বাংলাদেশ, আমাদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ, আমরা এখনো পাইনি।’
বুধবার ঢাকার রায়ের বাজারে জুলাইয়ে শহিদদের গণকবর জিয়ারতের শেষে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই বিপ্লবের দুই বছর উপলক্ষে মাসব্যাপী দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ কর্মসূচি শুরু করেছে এনসিপি। কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করে দলটি। এ সময় দলটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নাম সর্বস্ব জুলাই উদযাপন না করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলে হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা—সংস্কার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতীয় জাদুঘর যেটা, সে জাদুঘর খুলে দেয়া হচ্ছে না। ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর খুলে দিতে হবে, না হলে জনগণ নিজেরাই সেই জাদুঘর কিন্তু খুলে নেবে এবং নিজেরাই সেই জাদুঘরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে।’
জাসদ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন গতকালকে ট্রাইব্যুনালের একটি বিচারের রায় এসেছে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই রায় বাংলাদেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। আমরা মনে করি সেই রায়ের মাধ্যমে আমরা যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম, যারা শহীদ পরিবার, যারা আহত যোদ্ধা রয়েছে, তারা কোন ন্যায়বিচার পায়নি। হাসানুল হক ইনু্ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষভাবে গণহত্যায় মদদ যুগিয়েছিলেন। গণহত্যার যে সিদ্ধান্ত ছিল, শেখ হাসিনা যিনি প্রধান সিদ্ধান্তকারী ছিলেন, তাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছেন। ফলে আমরা মনে করি তাকে যে ১০ বছর করে তিনটি মামলায় সাজা দিয়েছে, এটা যথেষ্ট নয়। আমাদের আবেদন থাকবে রাষ্ট্রপক্ষ যাতে এটা আপিল করে এবং আমরা তার কঠোর থেকে কঠোরতর বিচার প্রত্যাশা করছি।’
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে এনে দ্রুত সাজা কার্যকরের দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। বলেন, ‘আমরা আশা করব যে শেখ হাসিনাকে-সহ জুলাই গণহত্যাকারী এবং ওসমান-হাদীর হত্যাকারী যারা ভারতে পালিয়ে রয়েছে, তাদেরকে দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় সেটি কার্যকর করা হবে।’
