‘সৈয়দ আব্দুল হাদী নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করেন’

‘সৈয়দ আব্দুল হাদী নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করেন’

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর ৮৬তম জন্মদিন আজ। আর এ উপলক্ষে তার গান, কর্ম ও জীবনের গল্প নিয়ে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও প্রামাণ্য চিত্র নির্মাতা শাইখ সিরাজ নির্মাণ করেছেন বিশেষ সাক্ষাৎকারধর্মী প্রামাণ্য চিত্র ‘গল্প আছে এখানে...’। চ্যানেল আইতে বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে প্রচার হবে এই প্রামাণ্য চিত্রটি। এতে উঠে এসেছে কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নেয়া এই শিল্পীর জীবন, কর্ম, সংগ্রাম, শিল্প ভাবনা এবং সংগীতযাত্রার নানা অজানা অধ্যায়।

অনুষ্ঠানে আলাপচারিতায় সৈয়দ আব্দুল হাদী স্মৃতিচারণ করেছেন তার শৈশব, সংগীত জীবনের সূচনা, বাংলাদেশের সংগীতের বিবর্তন, সমকালীন শিল্পচর্চা এবং আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি তার প্রত্যাশা। একইসঙ্গে উঠে এসেছে তার কালজয়ী গানগুলোর পেছনের গল্প, সময় ও সমাজের সঙ্গে সংগীতের সম্পর্ক এবং একজন শিল্পীর দীর্ঘ পথ চলার নানা অভিজ্ঞতা। প্রামাণ্য চিত্রটি নির্মাণ প্রসঙ্গে শাইখ সিরাজ বলেন, ‘গল্প আছে এখানে’-এর মাধ্যমে আমরা শুধু তার সাফল্যের গল্প নয়, বরং একজন শিল্পীর চিন্তা, দর্শন, মূল্যবোধ এবং সময়কে ধারণ করার চেষ্টা করেছি। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি হবে একজন জীবন্ত কিংবদন্তির অভিজ্ঞতা থেকে শেখার একটি মূল্যবান দলিল।

শাইখ সিরাজ এর আগে নায়ক রাজ রাজ্জাকের জীবন ও কর্ম নিয়ে ‘রাজাধিরাজ রাজ্জাক’, শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে নিয়ে ‘জুঁই ফুল সাবিনা’ সহ বেশ কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেছেন। এবার সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে প্রমাণ্য চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা কেমন? উত্তরে মানবজমিনকে শাইখ সিরাজ বলেন, আসলে একেক জন মানুষ একেক রকম। কেউ কথা বলতে ভালোবাসে, কেউ কথা কম পছন্দ করে। হাদী সাহেব খুব চুপচাপ শান্ত স্বভাবের মানুষ। কম কথা বলেন, তবে ‘টু দ্য পয়েন্ট’ বলেন। সৈয়দ আব্দুল হাদী নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করেন।

তাকে প্রশ্ন করে তথ্য বের করে নিয়ে আসতে হয়। উনাকে বলেছিলাম, আপনাকে যারা কাছ থেকে চেনেন, বলতে পারেন, এমন কার সঙ্গে কথা বলা যায়? উনি বললেন, কি দরকার অন্যদের বিরক্ত করা। আপনি আমাকে যেভাবে চেনেন, তারও সেভাবেই চেনেন।

শাইখ সিরাজ বলেন, আরেকটা বিষয় হচ্ছে, স্ত্রীর ব্যাপারে হাদী সাহেবের আবেগ প্রচণ্ড গাঢ়। তিনি অনেক আগেই ক্যান্সারে মারা গিয়েছেন। পারিবারিক অ্যালবামগুলো দেখাতে চেয়েছিলাম অনুষ্ঠানে, হাদী সাহেব বললেন দরকার নেই। স্ত্রীর ছবিও তিনি ব্যবহার করতে চান না। তবে সৈয়দ আব্দুল হাদী জীবনে প্রত্যাশার চাইতেও বেশি পেয়েছেন। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। তার অভিজ্ঞতার পাল্লা অনেক ভারী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে আরও বলিষ্ঠ করেছে। হাদী সাহেবের গান একেকটা সময়কে প্রতিনিধিত্ব করে।

যেমন বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে ও পরে দেশের গানগুলো হৃদয় ছুঁয়ে গেছে মানুষের। অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে তার গানগুলো দারিদ্র্যতার সাক্ষী রাখে। আবার অনেকে তাকে ‘আছেন আমার মোক্তার’ গান দিয়েই তাকে চেনেন। একেকটা সময় তিনি এক এক ধরনের গানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যা সেই সময়ের সাক্ষী।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন