বস্তাভর্তি পিয়াজ পানিতে ফেলে প্রতিবাদ

বস্তাভর্তি পিয়াজ পানিতে ফেলে প্রতিবাদ

ফন্ট সাইজ:

ফরিদপুরের প্রধান অর্থকরী ফসলই হচ্ছে পিয়াজ। এই জেলার মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি পিয়াজ আবাদ হয়ে থাকে সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে। তবে প্রতি বছরের মতো এবারো বিপুল পরিমাণে পিয়াজ আবাদ করে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একদিকে বাজারে পিয়াজের দাম এবারেই নেই। অন্যদিকে সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বিদ্যুতের ভেলকিবাজির কারণে পিয়াজ ঘরেও রাখা যাচ্ছে না, পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় পিয়াজ এখন কৃষকের গলার কাঁটা। তাই কোনো দিক না পেয়ে অনেক কৃষককে দেখা গেছে, তাদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পিয়াজ বস্তা ভরে এনে ডোবার পানিতে ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার একাধিক কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার নানা জাতের বিপুলপরিমাণে পিয়াজ আবাদ হয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশির ভাগ হাইব্রিড জাতের পিয়াজ আবাদ করা হয়েছে। এই হাইব্রিড পিয়াজ কোনোভাবে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। এমনকি সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে যে ঘরগুলো তৈরি করে দেয়া হয়েছে, সঠিকভাবে বিদ্যুত সরবরাহ না থাকায় সেখানেও পিয়াজ রাখা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত গরম আর সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে পিয়াজ পচে যাচ্ছে। আর বাজারে পিয়াজের যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচও ঘরে নিতে পারছে না কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ-সরকারিভাবে দেয়া এয়ারফ্লো মেশিন অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও কারিগরি সমস্যার কারণে সংরক্ষিত পিয়াজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে পচনের ঘটনা বাড়ছে বলেও তারা জানান। ফরিদপুর কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, পিয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের সহায়তায় ২০২-৪২৫ অর্থবছরে জেলায় ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। চলতি বছর ইতিমধ্যে ৭০০টি বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় আড়াই হাজার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে কম দামে পিয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। তবে কৃষকরা বলছেন, রাত-দিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিদ্যুত থাকে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। এই বিদ্যুৎ দিয়ে কোনোভাবেই পিয়াজ সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন