নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় দাবি করেছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হয়েও তিনি কথিত এক সাংবাদিকের চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। তার অভিযোগ, ‘অপরাধ বিচিত্রা’- পরিচয়ে শাহীন নামে এক ব্যক্তি প্রথমে সাংবাদিক পরিচয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য তিনটি বিমানের টিকিট এবং পাঁচতারকা হোটেলে তিন রাত থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার দাবি জানান। এতে সাড়া না পেয়ে পরে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সংবাদ প্রকাশ করে তাকে হেয় করার হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও একই ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানান- ইউএনও।
মঙ্গলবার দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও অভিযোগের সত্যতা তুলে ধরে অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দেশের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয়। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্ব না দেয়ার পর শাহীন নামে ওই ব্যক্তি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগসাজশে এক শতাংশ তহবিলের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন।
ইউএনও দাবি করেন, জমি নিবন্ধন থেকে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিল সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের তথ্য উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রকাশ করা হয়ে থাকে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী এক শতাংশ তহবিলের অর্থ ব্যয়ের নির্বাহী ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নয়। এ তহবিলের বরাদ্দ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ওপর ন্যস্ত। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ইতিমধ্যে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন। ফলে ওই বরাদ্দে অনিয়ম, দুর্নীতি বা আত্মসাতের অভিযোগের সুযোগ নেই বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
