নড়াইলে আধিপত্য বিস্তারের জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপ এবং খলিল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত হন। নড়াইল সদর হাসপাতালে একজন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওলি মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- উপজেলার বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া এবং মুন্না শেখ।
জানা গেছে, সদর উপজেলার সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের ও খলিলের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’টি পক্ষই সক্রিয় ছিল। এর জেরে সোমবার ভোরে বড়কুলা এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন মারা যান।
এ সময় গুরুতর আহত হন অপরপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর। তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে মুন্না শেখ মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশ জানায়, ভোরে সেহ্রির পরপরই ৫০-৬০ জনের একটি দল তারাপুর গ্রাম থেকে বড়কুলা গ্রামে এসে খলিল শেখের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে সেটা পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নেয়। এ সময় উজ্জ্বল শেখের সমর্থকরা খায়ের মোল্লার সমর্থকদের ৬টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে।
নিহত খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম সাংবাদিকদের জানান, তারা তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা। ৯-১০ বছর আগে গ্রাম্য সংঘর্ষ এড়াতে বড়কুলা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। এরপরও দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছিল। তিনি বলেন, ভোর রাতে সেহ্রি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন তারাপুর গ্রাম থেকে আসা খায়ের মোল্লা ও তার ভাইসহ ৫০-৬০ জন আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা আমার স্বামী খলিল শেখ এবং ছেলে তাহাজ্জতকে কথা আছে বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাদের দু’জনকে রক্ষা করতে গেলে আমাদের পক্ষের ফেরদাউসকে হত্যা করা হয়।
অপরদিকে খায়ের মোল্লার সমর্থক নিহত ওসিকুরের স্ত্রী কেয়া বেগম বলেন, প্রতিপক্ষের লোকেরা তার স্বামীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বড়কুলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ওসিকুর তাদের গ্রামেরই বাসিন্দা। কিন্তু তিনি খায়েরুজ্জামান খায়ের মোল্লার সমর্থক। তারাপুর গ্রাম থেকে যারা হামলা করতে এসেছিলেন ওসিকুর তাদের পক্ষ থেকে সেখানে গিয়েছিলেন।
এদিকে, নড়াইল-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহত পরিবারে সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার বলেন, সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক দুই চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লা ও উজ্জল শেখের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এ ব্যাপারে কাজ করছে।
