চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিশ্বকাপে হারানোর পর সোমবার নির্ঘুম কাটাচ্ছে প্যারাগুয়ে। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর আবাল বৃদ্ধ বণিতা নির্বিশেষে রাস্তায় নেমেছেন। তারা আনন্দে ফেটে পড়ছেন। এ এক অবর্ণনীয় দৃশ্য। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসে লাখ লাখ মানুষ। এদিকে এই স্মরণীয় বিজয় উপলক্ষে জাতীয় ছুটি ঘোষণার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রাজধানী আসুনসিওন-এর কেন্দ্রস্থলে লাখো সমর্থক জড়ো হয়ে উদযাপনে অংশ নিচ্ছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল প্যারাগুয়ের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় জয়। রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করে দলটি। দক্ষিণ আমেরিকান ছোট দেশ প্যারাগুয়ে সাধারণত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব বেশি আলোচনায় থাকে না। তবে সোমবার রাতে তাদের জাতীয় দল ‘আলবিরোহা’- যার নাম এসেছে জার্সির লাল ও সাদা রঙ থেকে, তারা ছিল পুরো দেশের গর্বের প্রতীক। রাজধানীর রাস্তাজুড়ে গাড়ির দীর্ঘ বহর হর্ন বাজিয়ে বিজয় উদযাপন করে দেশবাসী। প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘প্যারাগুয়ে কখনও হার মানে না।’
এরপর তিনি স্প্যানিশ ভাষার একটি কথ্য শপথসূচক শব্দ আংশিক ব্যবহার করে রসিকতার ভঙ্গিতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন। তবে তিনি ছুটির নির্দিষ্ট তারিখ সঙ্গে সঙ্গে জানাননি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও টাইব্রেকারে হারেনি জার্মানি। কিন্তু দুই খেলোয়াড় নিশ্চিত জয়ের সুযোগ নষ্ট করার পরও স্নায়ুচাপ সামলে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে। এখন তাদের সামনে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে বর্তমান টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স।
তবে তার আগে মঙ্গলবার সুইডেনকে হারাতে হবে ফ্রান্সকে। উদযাপনকারী গাড়িবহরে অংশ নেয়া ৫৮ বছর বয়সী ব্যাংকার আমাদো সালোমন বলেন, প্যারাগুয়ে ঠিক সেটাই করেছে, যেটা তারা সবচেয়ে ভালো পারে। পুরো ম্যাচজুড়ে হৃদয় উজাড় করে রক্ষণ সামলেছে। এমনকি অতিরিক্ত সময়েও। তিনি বলেন, এই দল কখনও লড়াই থামায় না।
৬১ বছর বয়সী হোটেলকর্মী লুইস এসপিনোলা বলেন, প্যারাগুয়েকে সমর্থন করলে শেষ মিনিট পর্যন্ত কষ্ট সহ্য করতে হয়। তিনি আরও বলেন, এটাই আমাদের পরিচয়ের অংশ।
