নাটোরে চেম্বারে ঢুকে এক আইনজীবীকে বেধড়ক মারপিট করেছে ছদ্মবেশী এক যুবক। পরে সহকর্মীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় কাবিল হোসেন নামের ওই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আহত আইনজীবীর নাম আসাদুল ইসলাম (৭২)। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেলার সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বাদী হয়ে একটি দেওয়ানি মামলা করায় অভিযুক্ত যুবক ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।
জেলা আইনজীবী সমিতি ও সদর থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল বেলা পৌনে ১টার দিকে আসাদুল ইসলাম নিজ চেম্বারে বসেছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গেরুয়া রংয়ের সন্ন্যাসীর পোশাক পরিহিত এক যুবক রড দিয়ে আইনজীবী আসাদুল ইসলামের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এ সময় তিনি হাত-পা দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার দুই হাত, ডান পা ভেঙে যায় এবং মাথা ফুলে ওঠে। আকস্মিক এ ঘটনায় আশপাশে থাকা শত শত বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আইনজীবীর সহকারীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে যুবককে আটক করে রাখা হয়। পরে পুলিশ ওই যুবককে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইনজীবী আসাদুল ইসলামকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তার দুই হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, আহত আইনজীবীর হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী মৃন্ময় কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমার চেম্বারটা আসাদুল ইসলামের চেম্বারের পাশেই। তার চিৎকার শুনে আমি ছুটে গিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। কিন্তু হামলাকারী এত জোরে আঘাত করছিলেন যে, তার রডটি একপর্যায়ে ভেঙে যায়। পরে অন্যান্য আইনজীবী ও মোহরাররা ছুটে এলে তাকে রক্ষা করি এবং হামলাকারীকে ধরে ফেলি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রুহুল আমীন তালুকদার বলেন, হামলাকারী সন্ন্যাসীর বেশে সাবেক জিপি’র চেম্বারে ঢুকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আকস্মিক মারপিট শুরু করেন। পরে তাকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়েছে। নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান জানান, হামলাকারী থানা হেফাজতে আছে। ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম চলমান।
