সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে কমিটি। আপাতত একমাস তারা এই হিসাব রাখবেন। এরপর ঠিক করবেন কর্মপরিকল্পনা। কীভাবে মাজার চলবে, আয়ের টাকা কীভাবে ব্যয় হবে- এসব বিষয় নিয়ে নতুন ফর্মুলা খুঁজে বের করা হবে। এতে রাজি মাজার কর্তৃপক্ষও। তবে চোখ-কান খোলা আছে সবার। এ কমিটির কাজে নজর রয়েছে সিলেটবাসীরও। সুরাহার বিষয়টি সহজ নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে থিওরি কী আসে- সেদিকে তাকিয়ে আছেন সবাই। কমিটির প্রধান বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটি আগামী একমাস এ নিয়ে কাজ করবে। মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিনিধিও এ কমিটিতে রয়েছে। যেহেতু একমাস সময় রয়েছে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা হবে চলমান নিয়মে। আর দানের মাধ্যমে আয়ের টাকা আপাতত মাজারের নামে যে অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেখানে জমা হবে।
সিলেটের মাজারের আয়ের হিসাব নিয়ে সিলেটে কৌতূহলের অন্ত ছিল না। দানের টাকা কোথায় যায়- এ নিয়েও সর্বত্রই নানা জল্পনা। কতো টাকা আয় হয় মাজারে, সেটিও সবার ছিল অজানা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে সিলেট থেকে বদলি হওয়া বহুল আলোচিত জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম মাজারের দানবাক্সে হস্তক্ষেপ করেন। নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মাজারকেন্দ্রিক সব দানবাক্সও। বিষয়টি নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন ২১শে জুন জেলা প্রশাসককে সিলেট থেকে বদলি করা হয়। তবে যাওয়ার আগে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম দেখিয়ে গেছেন মাজারে তিনদিনে দানবাক্স থেকে আয় হয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। অনেকের কাছে বিষয়টি অবিশ্বাস্য। এত টাকা উঠে মাজারে? প্রশ্ন উঠে কী হয় এই টাকার। উত্তরে মিলে মাজারের সব টাকা যায় খাদিমপক্ষের পকেটে। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় দেশ জুড়ে। ডিসি সারওয়ার আলমের পক্ষে সিলেটের রাজপথে মানুষ। তাকে চায় তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সিলেট থেকে উঠিয়ে নেয়া হলো ডিসি সারওয়ারকে।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত। বুধবার সিলেট আসেন সাবেক মেয়র ও বর্তমান শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বললেন, ডিসি সারওয়ার চোখ খুলে দিয়েছেন। শুক্রবার সিলেট এসে প্রথমেই মাজার নিয়ে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মাজার তার নির্বাচনী আসনে। প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মাজার কর্তৃপক্ষকে বৈঠক করে তিনি একটি কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির প্রধান তিনি নিজেই। কমিটিতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, মাজারের মোতওয়াল্লি পরিবারের দু’জন সদস্য, মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দু’জন প্রতিনিধি রাখা হয়। কমিটির সচিব সিলেটের জেলা প্রশাসক। তবে কমিটিতে রাখা হয়নি আরেক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে। এ নিয়ে এন্তার আলোচনা সিলেটে। নেটদুনিয়ায় নানা আলোচনা, সমালোচনা।
তবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে কোনো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। গঠিত কমিটি নিয়েও যখন প্রশ্ন তোলা হয়েছে তখন গতকাল বিষয়টি পুনরায় খোলাসা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বলেছেন, কমিটি যেভাবে রাখা হয়েছে সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ে কাউকে রাখা হয়নি। কমিটিকে ৩০ দিনের সময় দেয়া হয়েছে।
মাজার কীভাবে আগামী দিন চলবে সে বিষয়ে প্রক্রিয়া উত্থানের জন্য এ সময় দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই ৩০ দিনের মধ্যে বাক্সভর্তি হলে টাকা গুনতে হবে। প্রকাশ্যেই সেই টাকা গোনা হবে। আর সেটি রক্ষিত থাকবে ডিসি পরিচালিত নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে। মন্ত্রী যোগ করেন এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা এখন কী হতে পারে? এ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আমি আছি। বলেন, আমরা চাইছি স্বচ্ছতার মাধ্যমে স্থায়ী একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যেতে।
