জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২ জনকে হত্যা এবং এক শিশুকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রোববার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করবেন। হাবিবসহ ৫ পুলিশের বিচারের রায় আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। মামলায় সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৫ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর অধীনে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ষড়যন্ত্র, অপরাধে সহযোগিতা ও উস্কানি, অপরাধ প্রতিরোধ বা শাস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত অন্য ৪ আসামি হলেন ডিএমপি’র খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান, সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। এসব আসামিদের মধ্যে বর্তমানে শুধু এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার কারাগারে রয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই আন্দোলন দমনে পুলিশের করা গুলিতে ছয় বছর বয়সী শিশু মুসা গুলিবিদ্ধ হয়। তার শরীর ভেদ করে বুলেটটি দাদি মায়া ইসলামকে বিদ্ধ করলে তিনি মারা যান। একই ঘটনায় গুলিতে নিহত হন মো. নাদিম। এ ছাড়া একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশ ধরে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। সে সময় খুব কাছ থেকে দুই পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন।
ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। গত বছরের ৬ই আগস্ট মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ১৫ই জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল ২৮শে জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে মোট ৫ জন আসামির বিরুদ্ধে বিচার কাজ শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ তাদের অভিযোগ প্রমাণে মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার মামলায় সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন। আজ রায় ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা মামলাটি নিষ্পত্তি হবে।
