হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়, বরং ন্যায্যতার ভিত্তিতেই কর আদায় করা সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, করের আওতা সম্প্রসারণ করা হবে, তবে এতে কোনো করদাতা বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি কর্তৃক আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেটের সুফল পেতে অর্থের জোগান অপেক্ষা বাস্তবায়ন দক্ষতা বেশি জরুরি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর মাত্র চার মাসে এনবিআরে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আগামী ৩০শে জুনের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। মেগা প্রকল্প বানিয়ে মানুষকে চমকে দিয়ে উন্নয়নের ফানুস তৈরি করে মেগা লুটের ব্যাপারে এ সরকারের কোনো আগ্রহ নেই। ফ্যাসিস্ট আমলে গৃহীত যেসব মেগা প্রকল্পগুলো এখন বন্ধ করে দিলে বড় ধরনের অপচয় ও সমস্যা হতে পারে, সেগুলোকে রেশনালাইজড করতে বাছাই করা হচ্ছে। সরকার মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে রক্ষণশীল। মেগা প্রকল্পের চাইতে মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রিক ও প্রয়োজনীয় প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার হতাশাজনক। এই অবস্থা উত্তরণে সরকার সচেষ্ট।
তিনি আরও বলেন, করের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে খুদে দোকানিরা যাতে ন্যূনতম কর দিতে পারে সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতেই কর আদায় করা সরকারের উদ্দেশ্য। সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতির অভিঘাত থেকে রক্ষার জন্য ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। করের পরিধি বাড়াতে গিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হবে না। আমাদের লক্ষ্য শুধু যারা ইতিমধ্যে কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা নয়। বরং কীভাবে করের ভিত্তি আরও বিস্তৃত করা যায়, কীভাবে আরও বেশি মানুষকে করের আওতায় আনা যায়, সেটির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
এ সময় ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আওয়ামী সরকারের ভুলনীতি, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি ভেঙে পড়েছিল। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। সে সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সুশাসনের অভাবে বাজেটের প্রত্যাশিত সুফল জনগণ পায়নি। বাজেটের সুফল পেতে অর্থের জোগান যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি এর বাস্তবায়ন দক্ষতাও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী সরকারের আমলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে।
মেগা প্রকল্পের আড়ালে মেগা চুরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় দুর্নীতির লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির কাছে ইজারা দেয়া হয়েছিল। সরকার বলছে তারল্য সংকট মোকাবিলায় টাকা ছাপানোর প্রয়োজন হবে না। অথচ আমরা দেখছি টাকা ছাপিয়ে ইসলামী ব্যাংককে ৯ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ভবিষ্যতে যদি আরও টাকা ছাপিয়ে তারল্য সংকট মোকাবিলা করা হয় তাহলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে হলে সরকারকে শিল্প কলকারখানায় গ্যাস- বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নীতি সহায়তার মাধ্যমে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান মুখ থুবড়ে পড়বে।
ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকার প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। অংশগ্রহণকারী দলকে প্রতিযোগিতা শেষে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন- অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী ও সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ।
