তিন বছর চুল কেটে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ১৯ বছরের তরুণ

তিন বছর চুল কেটে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ১৯ বছরের তরুণ

ফন্ট সাইজ:

কানসাস সিটিতে মিসৌরি নদীর পাড়ে বসে চুল কাটছে একটি ছেলে। হাতে কাঁচি, মুখে হাসি। নাম হোয়াকিন। বয়স উনিশ। আর্জেন্টিনা থেকে এসেছে বিশ্বকাপ দেখতে। পকেটে বাবার দেয়া টাকা নেই। স্পন্সর নেই। সঙ্গী নেই। আছে শুধু একটা কাঁচি, একটা হেয়ার ক্লিপার আর বুকভরা জেদ। আর্জেন্টিনার ছোট্ট শহর ভিয়া পুয়েইরেদোনে স্কুলের তৃতীয় বর্ষে স্বপ্নের শুরু। মনে গেঁথে নেন বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন। যে করেই হোক বিশ্বকাপ দেখতে যাবেন হোয়াকিন। সেদিন থেকে শুরু অদ্ভুত এক সঞ্চয়ের গল্প। পাড়ায় পাড়ায় চুল কাটা, পেসো জমানো, ডলারে রূপান্তর। এভাবেই সাড়ে তিন বছর ধরে একটু একটু হোয়াকিন স্বপ্নের ভিত্তি গড়েন। একদিন স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন। বিশ্বকাপ দেখতে উড়াল দেন যুক্তরাষ্ট্রে।

কানসাস সিটিতে হোস্টেলের সামনে অস্থায়ী সেলুন গেড়ে বসেছেন হোয়াকিন। বিনামূল্যে চুল কেটে দেন। বিনিময় কিছু চান না। শুধু স্বপ্নের কাছাকাছি থাকার আনন্দটুকু প্রাপ্তি। হোয়াকিনের কাস্টমারের তালিকা শুনলে চোখ কপালে উঠবে। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক দিবু মার্তিনেজের বাবা, তার ভাই এবং একাধিক সাংবাদিক। হাসতে হাসতে সেই স্মৃতি আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ওলেকে জানান হোয়াকিন। তিনি বলেন, ‘দিবুর বাবার চুল কেটেছি, ভাইয়েরও। সোশ্যাল মিডিয়ায় যাদের দেখি, তাদেরই চুল কাটছি!’ বাড়িতে ফুটবলের চল নেই।

বাবা-মা পছন্দ করেন না এই খেলা। তবু হোয়াকিন ঘোর ফুটবলপ্রেমী। নিজের পরিচয় দেন এভাবে, ‘আমি একটু অন্যরকম মানুষ।’মেসির প্রতি হোয়াকিনের আকুণ্ঠ সমর্থন। জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ বটে! তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের তালিকায় আছেন-বাবা, মা, পরিবার, আর লিও।’ ডালাসের ম্যাচ এড়িয়ে এখন চোখ মিয়ামির দিকে। পরের রাউন্ডও মিস করবে না সে। তাই ফের শুরু হয়েছে সঞ্চয়। কাঁচি থামেনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন