স্পেনকে থামালো, উরুগুয়েকে আটকালো। সৌদি আরবকে রুখে দিলো। এবার সামনে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। না, এটা কোনো রূপকথার গল্প নয়। এটাই এখন বাস্তব। এই বাস্তবতার নাম কেপ ভার্দে। হিউস্টনে সৌদি আরবকে গোলশূন্য ড্র’য়ে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখলো পশ্চিম আফ্রিকার এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ খেলে এখনো অপরাজিত ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বর দলটি। আগামী ৪ঠা জুলাই শেষ-বত্রিশ পর্বে মায়ামিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা। মেসিদের বিপক্ষে এই লড়াইয়ের আগে কেপ ভার্দে কোচ বুবিস্তার ঘোষণা, ‘আমাদের কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’
সৌদিকে রুখে দেয়ার পর কাঁধে কেপ ভার্দের জাতীয় পতাকা জড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আসেন বুবিস্তা। তার চোখই যেন উল্লাস আর ইতিহাসের কথা জানান দিচ্ছে। আবেগপ্রবণ বুবিস্তা নিজেকে সামলে নেন। এরপর বলেন, ‘এই দল যা করে দেখিয়েছে, তার জন্য আমরা এবং কেপ ভার্দের প্রতিটি মানুষ গর্ব করতে পারি।’ গর্ব করার যথেষ্ট কারণ আছে। জনসংখ্যায় বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে ছড়িয়ে থাকা দশটি আগ্নেয় দ্বীপ মিলিয়ে দেশটিতে মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি মানুষের বাস।
সেখান থেকে রেকর্ড গড়ে নকআউটে পা রাখলো কেপ ভার্দে। ২০১০ সালে স্লোভাকিয়ার পর কেপ ভার্দেই প্রথম কোনো দল, যারা বিশ্বকাপের অভিষেক আসরেই গ্রুপ পর্ব পার করার কৃতিত্ব দেখালো। এছাড়া ২০০৬ সালে ঘানার পর তারা প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে এই সাফল্য পেলো। ২০০২ সালে সেনেগালের
পর কেপ ভার্দেই প্রথম কোনো দল, যারা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম তিন গ্রুপ ম্যাচে অপরাজিত। ইতিহাস গড়ার শুরুটা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ০-০ ড্রতে আটকে দিয়ে।
এরপর উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র। আর শেষটা সৌদি আরবকে গোলশূন্যে বেঁধে রেখে। এমন সাফল্য বিশ্বের ছোট দলগুলোকে অনুপ্রেরণা দেবে বলে বিশ্বাস কেপ ভার্দে কোচের। বুবিস্তা বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের দেশকে নয়, আফ্রিকাকে এবং বিশ্বের সব ছোট দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি। আমরা একটি উদাহরণ তৈরি করেছি। মনোযোগ আর দৃঢতা নিয়ে কাজ করলে লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়।’ ৫৬ বছর বয়সী এই কোচ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফল নিয়ে এখনই মাথা ঘামাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ও মেসির বিপক্ষে মাঠে নামতে পারাটাই আমাদের দেশের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি। ম্যাচের ফল যাই হোক।’
