যুক্তরাষ্ট্রের ‘বখশিশ সংস্কৃতি’

ফুটবল ভক্তদের নাভিশ্বাস অসন্তুষ্ট রেস্তরাঁ মালিকরাও

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের জটিল ও ব্যয়বহুল ‘টিপিং কালচার’ বা বখশিশ সংস্কৃতি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বিশ্বকাপে আসা বিভিন্ন দেশের ফুটবল ভক্তরা। অন্যদিকে বিদেশি পর্যটকদের বখশিশ না দেয়ার প্রবণতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও বার মালিকরা। বিবিসির এক প্রতিবেদনে মাঠের বাইরের এই অন্যরকম সংস্কৃতি সংঘাতের চিত্র উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রেস্তোরাঁ কর্মীদের মূল বেতন অনেক কম হওয়ায় গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বখশিশ আশা করা হয়। এটি অনেক দেশের পর্যটকদের কাছে বড় ধরনের এক ‘কালচার শক’। অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ক্রিস ও’ফ্লিন বিবিসিকে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট দাম থাকে এবং আমরা সেটিই পরিশোধ করি। কিন্তু এখানে পানির বোতল কিনলেও বখশিশ চাওয়া হয়। কর্মীদের ভালো বেতন দেয়ার দায়িত্ব ব্যবসার, গ্রাহকের নয়।’

জাপান থেকে আগত মাইকো আসাহি জানান, বখশিশ ছাড়া এমনিতেই খাবারের দাম অনেক বেশি। বখশিশ যোগ করার পর তা নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আরেক জাপানি ভক্ত আকিহিরো বলেন, ‘এখানে সবচেয়ে সস্তা খাবারের দামও ৩০ ডলার। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ বখশিশ যোগ করলে মনে হয় এই টাকায় আরও এক বেলা খাওয়া যেতো।’ এদিকে বিদেশি ফুটবল ভক্তদের বখশিশ না দেয়ার অভ্যাসে হতাশ মার্কিন রেস্তোরাঁ কর্মীরা। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ‘ব্যান্টার’ নামক একটি ফুটবল বারের মালিক ক্রিস কেলার জানান, বৃটিশ ও ইউরোপিয়ান পর্যটকরা বখশিশ দেয়ার ক্ষেত্রে খুবই কৃপণ। অনেক সময় তারা নিয়ম না জানার ভান করেন। কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এখন তিনি ড্রিংকসের অগ্রিম বুকিংয়ের সঙ্গে সার্ভিস চার্জ যুক্ত করার নিয়ম করেছেন।

এদিকে ম্যানহাটনের ‘হার্লিস’ বারের সহ-মালিক অ্যান ক্যালিম্যানো জানান, অনেক সময় ৬০০ ডলারের খাবার খেয়েও ইউরোপিয়ানরা কোনো বখশিশ দেন না। তখন বাধ্য হয়ে কর্মীরা তাদের বুঝিয়ে বলেন যে, ইউরোপের মতো আমেরিকায় খাবারের দামের সঙ্গে সার্ভিস চার্জ যুক্ত থাকে না। আমেরিকায় অঙ্গরাজ্য ভেদে এই বেতনের কাঠামো আলাদা। যেমন লস অ্যাঞ্জেলেসে কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি ১৬.২০ ডলার। তবে আটলান্টার মতো শহরে বখশিশ পাওয়া কর্মীদের মূল বেতন ঘণ্টায় মাত্র ২.১৩ ডলার। ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট রেস্তোরাঁ কোয়ালিশন’-এর বোর্ড সদস্য রোজা থার্নহার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ২০ শতাংশ বখশিশ দেয়াটা একটা নিয়ম। এখানে বখশিশ না পেলে সেবা খাতের কর্মীদের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব।’ টিকিটের উচ্চমূল্যের পর আমেরিকার এই ব্যয়বহুল বখশিশ প্রথা বিদেশি ফুটবল ভক্তদের পকেট একপ্রকার ফাঁকাই করে দিচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন