শনিবার সন্ধ্যায় আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মাত্রা ছিল ৬.২। এতে প্রায় পুরো দেশ কেঁপে ওঠে। কম্পন ভারতের রাজধানী দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যে অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারত সরকারের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল আফগানিস্তানে। এনসিএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানিয়েছে, ২৭ জুন ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর কেন্দ্রস্থলের অবস্থান উত্তর অক্ষাংশ ৩৬ দশমিক ৪৪২ ডিগ্রি এবং পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ৭০ দশমিক ৬৭২ ডিগ্রি। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ২১৫ কিলোমিটার গভীরে আফগানিস্তানে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জুরম শহরের ৪৩ কিলোমিটার দক্ষিণে ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল। আফগানিস্তানে রাজধানী কাবুল ছাড়াও পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত ও নাঙ্গারহার প্রদেশে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ, সোয়াত, হাঙ্গু, উত্তর ওয়াজিরিস্তান, চিত্রাল এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। কম্পনে ভারতের রাজধানী দিল্লির কয়েকটি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের বাড়ি ও অফিস ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানে সংঘটিত আরেকটি ভূমিকম্পের পর দিল্লি-এনসিআর এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়। উল্লেখ্য, এই ভূমিকম্পের কয়েক দিন আগেই ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৯২০ জন নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা ওই দুটি ভূমিকম্পে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির বহু ভবন ধসে পড়ে। জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
