বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তার পাঠানো সেই চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিতের দাবি তুলেছেন। আইসিসি’র তহবিল বন্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলো থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে। গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনকে প্রহসনমূলক আখ্যা দিয়ে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আমিনুল নিজেকে এখনও বৈধ সভাপতি দাবি করে আইসিসিকে চিঠিতে জানিয়েছেন যে, অ্যাড-হক কমিটি অবৈধ। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভোটার তালিকা তৈরি করে ফলাফল নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো ওই বিশাল চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচিত বোর্ড পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আইসিসি যেন তাদের অনুদান আটকে রাখে। দেশের ক্রিকেটের এমন জটিল পরিস্থিতি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে এখন চলছে নানা আলোচনা। সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে তৈরি হয়েছে বড় শঙ্কা। বিসিবি’র ভবিষ্যৎ এখন আইসিসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন দেশের ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি বড় সংকটের মুখে পড়েছে। এখন দেখার বিষয় আইসিসি কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যদিও নিজের চিঠির বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে অস্বীকার করেছেন বুলবুল।
চিঠির প্রতিটি বাঁকে আমিনুল ইসলাম বুলবুল অ্যাড-হক কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি আইসিসিকে জানিয়েছেন যে, বর্তমান কমিটি কোনোভাবেই আইনত বৈধ নয়। তার ভাষ্যমতে, ‘রাজনৈতিকভাবে কারসাজি করে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।’ এই ভোটার তালিকার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে তিনি সরাসরি প্রহসন বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবির সপক্ষে বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণও তিনি আইসিসির কাছে দাখিল করেছেন। এছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয়া কাউন্সিলরদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিশদ বিবরণ দিয়েছেন তিনি। আমিনুল মনে করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সাজানো ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং কৌশলগত।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে তামিম ইকবাল খানের পরিবারের সদস্যকে পরিচালক হিসেবে দাঁড় করানোর ঘটনা। চিঠিতে তিনি আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর তামিম ইকবাল খানের ফুপা হওয়া সত্বেও পরিচালক পদে দাঁড়িয়েছেন।’ একে স্বার্থের চরমতম সংঘাত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। যদিও তামিম ইকবালের পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, বরং চট্টগ্রামের একজন অভিজ্ঞ সংগঠক হিসেবে সিরাজউদ্দিন পরিচিত। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই তিনি দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে যুক্ত ছিলেন। পোর্ট সিটি প্রিমিয়ার লীগ আয়োজন কিংবা বিপিএল শুরুর পেছনে তার অবদান রয়েছে।
বিসিবির বিভিন্ন পরিচালকের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন আমিনুল। ফাহিম সিনহার রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেছেন যে, ক্রিকেট পৃষ্ঠপোষকতার আড়ালে এটি একটি রাজনৈতিক অভিসন্ধি। এছাড়া বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও তিনি বিভিন্ন মামলা ও দখলের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। যদিও তারা দুজনই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত অবদান রেখে আসছেন। বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ এবং বিপিএলে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিন্তু আমিনুলের চিঠিতে সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের দিকেই নজর দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত সুকৌশল পদ্ধতিতে।
সবশেষে আমিনুল বাংলাদেশ সরকারকে আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্কবার্তা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তার চিঠিতে আইসিসি সংবিধানের ২.৪ ধারার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন কঠোরভাবে নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত বোর্ডকে পুনর্বহাল করা না হয়, তবে আইসিসি তাদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। যার ফলে বিসিবির সদস্যপদ স্থগিত কিংবা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অশনি সংকেত। আইসিসি এখন কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো দেশ। সংকটের সমাধান দ্রুতই হবে এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে এখানে। ক্রিকেট ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সর্বক্ষণ।
