যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ডের মতোই কৃষক কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব কৃষককে দেয়া হবে এই কার্ড। পরিসংখ্যানে যত কৃষক উল্লেখ আছে ধীরে ধীরে তারা এই কার্ড পাবেন। এতে দেশের কৃষকদের নানা সুবিধার আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। একজন কৃষকের উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন এই কার্ডের মাধ্যমে। গতকাল সচিবালয়ে কৃষক কার্ড নিয়ে বৈঠকের পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, দেশের কৃষকদের নানা সুবিধার আওতায় আনতে শিগগিরই কৃষি কার্ড বিতরণ শুরু হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, মূলত আমাদের কৃষকদের একটা স্মার্ট কার্ড দেয়া এবং স্মার্ট কার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে একটি ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আমরা আলাপ করছি। নীতিগতভাবে এটা আমাদের বহু আগের সিদ্ধান্ত। ইনশাআল্লাহ, যত দ্রুত সম্ভব আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মতোই কৃষক কার্ডের পাইলট প্রজেক্ট শুরু করতে যাচ্ছি। ঈদের আগে কি কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হবে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, সময়টা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কারণ, সময়ের সঙ্গে তো প্রস্তুতির অনেক বিষয় জড়িত। তবে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এবং তার পরামর্শ হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব এটা করা যায়। এই কার্ড পেলে একজন কৃষক কী সুবিধা পাবেন- এ বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই কার্ডটা পেলে একজন কৃষকের উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। যেমন ধরেন, তার জন্য কৃষি জ্ঞান, কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা। তাকে সার, কীটনাশক, বীজ, সব কৃষি উপকরণ- যেকোনো ধরনের সহযোগিতা তাকে করা। সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে, এই কার্ডের মাধ্যমে খুব একটা স্মার্ট পদ্ধতিতে বাজারের পরিস্থিতি, উৎপাদনের পরিস্থিতি, আবহাওয়ার পরিস্থিতি- সবটাই কিন্তু তখন একটা ধারণার মধ্যে আসবে। যে ধারণার ওপরে ভর করে আমরা একটা সঠিক পরিকল্পনা করতে পারবো।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, না, কৃষক কার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে তো আমরা প্রথমেই এই জন্যই মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন কোনো সুযোগ-সুবিধা না নিতে পারেন বা যেন কোনো লিকেজ না হয়, সে কারণেই কিন্তু আমরা স্মার্ট কৃষক কার্ডের দিকে যাচ্ছি। যেমন, আমরা যারা মোবাইল ফোন ইউজ করি, একজন সিম ক্রেতা এবং তিনি সরাসরি কিন্তু তার সব ধরনের সেবা ব্যাংক থেকে পাচ্ছেন। অতএব, একটা কৃষক স্মার্ট কার্ড যখন আমি তার হাতে পৌঁছে দেবো, এরপরে কিন্তু রাষ্ট্রের সঙ্গে তার যোগাযোগটা হবে সরাসরি। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না এবং তারও যে কোনো সমস্যা কিন্তু সরাসরি রাষ্ট্র জানতে পারছে। ফলে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আমাদের কিন্তু তখন সহজ হবে। কতো কৃষককে কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা আছেÑজানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব কৃষকদের দেবো। পরিসংখ্যানে যত কৃষক উল্লেখ আছে। অবশ্যই পাইলট প্রজেক্টে সবাইকে নিতে পারবো না। পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে শুরু করবো। কোন অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড দেয়া শুরু হতে পারে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, সেটা পরে।
