পিরোজপুরের নেছারাবাদের বলদিয়া ইউনিয়নের ডুবি-কাটাখালি বাণিজ্যিক খালের ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ডুবি থেকে কাটাখালির একমাত্র প্রধান সড়ক এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুল। প্রায় এক দশক ধরে চলমান এ ভাঙনে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে খালের তীরে অবস্থিত একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও চরম ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং আরও বহু বসতবাড়ি খালের গর্ভে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। সরজমিন দেখা যায়, ডুবি দক্ষিণপাড় থেকে কাটাখালি পর্যন্ত যাওয়ার একমাত্র সড়কের অধিকাংশই খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙে পড়া সড়কের পাশে ঝুলে আছে একাধিক পুল, যা নীরবে ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষ্য বহন করছে।
খালের মাঝেই ভেঙে পড়েছে নারিকেল ও সুপারি গাছ। কোথাও কোথাও ভাঙন এসে পৌঁছেছে বসতঘরের সিঁড়ি পর্যন্ত। ভাঙনের ভয়ে কেউ কেউ ইতিমধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা খালের গর্ভে বিলীন হচ্ছে। ডুবি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি মো. জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি, কিন্তু চলাচলের জন্য কোনো রাস্তা নেই। সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায়, তাহলে খাল দিয়েই চলাফেরা করতে হবে। আমাদের রক্ষা করুন। দক্ষিণ ডুবি রেজাউল করিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফাইজুল হক বলেন, খালের ভাঙনে আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
বিদ্যালয়ের সামনেও প্রতিনিয়ত ভাঙছে। শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসে। দ্রুত ভাঙনরোধ ও রাস্তা নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আজহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, প্রতিনিয়ত মানুষের বসতভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি ভাঙছে। তিনি দ্রুত খালের পাশে স্থায়ী গাইডওয়াল নির্মাণ এবং নতুন করে রাস্তা ও পুল নির্মাণের দাবি জানান। বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান বলেন, ভাঙনরোধ এবং নতুন সড়ক নির্মাণে একটি বৃহৎ সরকারি প্রকল্প গ্রহণ করা হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
