রাঙ্গামাটি শহরের বনরূপা কাটাপাহাড় এলাকার মেহরাব স্টোরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নের ৭৯৪টি সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত টিসিবি’র পণ্য তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করা হচ্ছে না। এতে ক্ষোভ, হতাশা ও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপকারভোগীরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি তালিকা অনুযায়ী টিসিবি’র প্যাকেজে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চাল ও চিনি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চালের পরিবর্তে দুটি সাবান দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উন্নতমানের সয়াবিন তেলের পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে পাম অয়েল।
ফলে সরকার যে সুবিধা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, তার পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। উপকারভোগীরা জানান, বালুখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ সুবিধাভোগী দিনমজুর, ক্ষুদ্র কৃষক, শ্রমজীবী, বিধবা, প্রবীণ ও স্বল্প আয়ের পরিবার। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে টিসিবি’র চাল, ডাল, তেল ও চিনি তাদের পরিবারের জন্য বড় ধরনের সহায়তা। কিন্তু তালিকার বাইরে ভিন্ন পণ্য দেয়ায় অনেক পরিবার খাদ্য সংকটের আশঙ্কায় পড়েছে। একাধিক গ্রাহক বলেন, আমাদের চাল পাওয়ার কথা, কিন্তু তার বদলে দুটি সাবান দেয়া হচ্ছে। আবার সয়াবিন তেলের পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে পাম অয়েল। সরকার যে পণ্য বরাদ্দ দিয়েছে, আমরা সেটাই চাই। আমাদের প্রাপ্য থেকে কেন বঞ্চিত করা হবে।
বালুখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাধন কুমার চাকমা বলেন, আমার ওয়ার্ডের ৭৯৪টি পরিবার টিসিবি’র সুবিধাভোগী। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করছেন, তালিকাভুক্ত পণ্যের সঙ্গে বিতরণ করা পণ্যের কোনো মিল নেই। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য পণ্য পান।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, টিসিবি’র মতো দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচিতে অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ। এসব পরিবারের অনেকেই মাস জুড়ে সংসার চালাতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাই পণ্য পরিবর্তন বা অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, এটি অসহায় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
