ফেনীর ছাগলনাইয়ায় জোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের এক নেতার গলাকাটা ও হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দুই কর্মী। শনিবার সকালে উপজেলার গোপাল ইউনিয়নের নুর আহাম্মদ মাস্টার বাড়ির সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান নিয়ে বিরোধের জের ধরে পারভেজকে কুপিয়ে খুন করেছে ছাত্রলীগ কর্মী মামুন ও শাহাদাত। পুলিশ, এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানায়, গণ-অভ্যুত্থানের পর ডজনখানেক মামলায় পারভেজ ও মামুন দীর্ঘদিন ফেনী কারাগারে হাজতবাস করে।
ওই সময়ে পারভেজ মামলার খরচ বহন করলেও মামুন কোনো টাকা দেয়নি। দুইজন কারাগার থেকে মুক্তির পর স্থানীয় দোকান নিয়ে বিরোধ ঘনীভূত হয়ে ওঠে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বাড়ির সামনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে জোবায়ের মামুনকে হাতে থাকা লাইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। বিষয়টি রাতেই বাড়ির লোকজন একত্রিত হয়ে সুরাহা করে দেয়। নিহতের বাবা আবু তাহের জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সর্বশেষ তিনি ছেলে জোবায়ের হোসেন পারভেজকে দেখেন। শনিবার সকালে নিজ বাড়ির সামনে তার গলা ও হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, একই গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে দোকান সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি পারভেজের ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়েছিল। ওই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। ছাগলনাইয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, নিহত পারভেজ ও অভিযুক্ত মামুন এবং শাহাদাতের নামে থানায় বেশ কিছু মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগেও তারা জেলপার্টনার ছিল। জামিনে বের হয়ে আসার পর উভয়ের মাঝে বিরোধ বেড়েছে।
ওই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবং নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা এমনটাই দাবি করছে। মরদেহটি উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
