পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার লক্ষ্যে ভারত ক্রমবর্ধমানভাবে গোপন কৌশল ও প্রক্সি শক্তির ব্যবহার করছে। শনিবার করাচিতে একদিনের সফরের সময় পাকিস্তান নৌবাহিনী একাডেমির পাসিং-আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে সংঘাত ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ হুমকির এক বিপজ্জনক সমন্বয় বিদ্যমান। তিনি বলেন, আমাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী, যা গত বছরের মে মাসে একটি অপমানজনক সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছিল, এখন ক্রমেই তারা গোপন কৌশল এবং প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে, যাতে আমাদের দেশে কষ্টার্জিত শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করা যায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
শেহবাজ শরিফ আরও বলেন, একই সময়ে আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম সীমান্ত থেকে উদ্ভূত বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের হুমকির মোকাবিলা করে যাচ্ছে। সমগ্র পাকিস্তানি জাতি তাদের বীর সশস্ত্র বাহিনীর পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, পুরো দেশ আমাদের শত্রুদের অশুভ ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করার দৃঢ় সংকল্পে অটল রয়েছে। একই সঙ্গে সব অনিষ্পন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তি, সংলাপ ও কূটনীতির পথ অনুসরণ অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান কাশ্মীরি জনগণ, গাজার বাসিন্দা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। স্নাতক উত্তীর্ণ ক্যাডেটদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তারা এমন এক সময় পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন, যখন বিশ্ব গভীর রূপান্তর এবং অভূতপূর্ব সুযোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সামুদ্রিক ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নৌবাহিনী অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চালকবিহীন ব্যবস্থার ব্যবহার গ্রহণ করছে।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, অঙ্গীকার, সাহস, শৃঙ্খলা, সততা ও আনুগত্যের মূল্যবোধে অবিচল থাকুন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আপনার কাঁধে যে পদমর্যাদা এসেছে, তা বিশাল দায়িত্ব বহন করে। এই মহান পেশায় পদার্পণের সময় সবসময় মনে রাখবেন- শান্ত সমুদ্র কখনো একজন নাবিককে পরীক্ষা করে না, আর অনুকূল বাতাস কোনো অধিনায়ককে সংজ্ঞায়িত করে না। উত্তাল সমুদ্র ও প্রবল বাতাসই একজন মানুষের প্রকৃত যোগ্যতার পরীক্ষা নেয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) জানিয়েছে, শনিবার সকালে শেহবাজ শরিফ করাচিতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান সিন্ধুর গভর্নর নেহাল হাশমি এবং মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ। সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।
